বাংলাধারা ডেস্ক »
বৃহস্পতিবার রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিনঘণ্টা ফেরি বসে থাকায় ঘাটে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি করেন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন।
জহির উদ্দিন বলেন, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার (৩১ জুলাই) এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে, নৌপরিবহন সচিবের নেতৃত্বে ওই ঘটনার তদন্ত, তিতাসের পরিবারকে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটের ম্যানেজার সালাম হেসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আজিপি’কে নির্দেশ এবং সড়ক ও ফেরিঘাটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউ-সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হচ্ছিল।
রাত ৮টার দিকে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ১নং ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। এসে ফেরি পায়নি তারা। রাত ৯টার দিক কুমিল্লা নামের একটি ফেরি শিমুলিয়া থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পৌঁছায়। এ সময় তিতাসের স্বজনরা ঘাটে কর্মরতদের তাদের রোগীর অবস্থা জানান।
তবে যুগ্ম সচিব ও এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ি না আসা পর্যন্ত ফেরি ছাড়তে রাজি হয়নি ঘাট কর্তৃপক্ষ। তিতাসের মৃত্যুর চার দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ঘাট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে কি-না, তা তদন্তের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ












