প্রয়াত অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে স্মরণে প্রকাশিত হয়েছে ‘স্মৃতির মণিকোঠায়: অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে স্মারক গ্রন্থ’। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, আইন পেশায় সততা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পরিবারের প্রতি গভীর মমত্ববোধকে স্মরণ করে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা পর্ষদের উদ্যোগে প্রকাশিত গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছেন প্রয়াতের জ্যেষ্ঠ সন্তান, সাংবাদিক ও গবেষক ড. অরুণ বিকাশ দে। তিনি বর্তমানে দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোর ডেপুটি ব্যুরো চিফ হিসেবে কর্মরত। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ রচনা করেছেন শিল্পী ও সাংবাদিক আজিজুল কদির।
স্মারক গ্রন্থটিতে প্রয়াত অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে’র বন্ধু, স্বজন ও গুণগ্রাহীদের স্মৃতিচারণ ও লেখনী স্থান পেয়েছে। তাঁদের লেখায় উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিজীবন, পেশাগত সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতার নানা দিক। ফলে গ্রন্থটির পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছে একজন আইনজীবী ও আদর্শ মানুষের কর্মময় জীবনের নানা অধ্যায়।
গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রয়াতের জ্যেষ্ঠ সন্তান ড. অরুণ বিকাশ দে বলেন, ‘এই গ্রন্থ প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে’র আদর্শকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের জন্য এটি যেমন নস্টালজিয়া বা স্মৃতিচারণের মাধ্যম, তেমনি যারা তাঁকে দেখেননি, তাঁদের জন্য এটি একজন আদর্শ মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ।’
অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পটিয়া মহকুমার ভাটিখাইন গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভাটিখাইন নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট, কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম আইন কলেজে পড়াশোনা করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন।
আইনজীবী হিসেবে প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর দায়বদ্ধতা।
২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট অ্যাডভোকেট অপূর্ব লাল দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতি, আদর্শ ও কর্মজীবনকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘স্মৃতির মণিকোঠায়’ স্মারক গ্রন্থটি।














