বাংলাধারা ডেস্ক »
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার প্রদেশটির একটি জনাকীর্ণ বাজারে এ হামলা চালানো হয়। এতে শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১৩ জন। আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন।
হতাহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব।
ইয়েমেনের কর্মকর্তা ও হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদা প্রদেশের কাতাবের এলাকায় অবস্থিত আল থাবেত মার্কেটে এ বিমান হামলা চালানো হয়। অঞ্চলটি ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার বেশিরভাগই এ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।
স্থানীয় আল জুমহৌরি হাসপাতালের প্রধান রয়টার্সকে বলেন, হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
হুথি বিদ্রোহীদের স্বঘোষিত সরকারের তেলমন্ত্রী ত্বহা মুতাওয়াকিল হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি-কে জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ হত্যাযজ্ঞের জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পালিয়ে যান হাদি। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এই যুদ্ধের সমালোচনা তীব্র হতে থাকে। গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার জন্য ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব তোলেন দেশটির সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












