২২ অক্টোবর ২০২৬

গলায় আঘাত, মুখে রক্ত, উধাও টাকা-মোবাইল; মৌসুমী হিজড়া হত্যায় যুবককে খুঁজছে পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরীর আমবাগান হিজড়া কলোনির একটি বাসায় মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়াকে (৫২) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গলায় আঘাতের চিহ্ন, মুখে রক্ত ও বেরিয়ে থাকা জিহ্বা দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তাকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে দেখা গেছে, সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক রাত ১টা ১৪ মিনিটে মৌসুমীর কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তাকে ওই কক্ষ থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই যুবককে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে খুঁজছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনির বাসা থেকে মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই খুলশী থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা রুস্তম আলী। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৌসুমীর বাসা থেকে নগদ টাকা ও ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে শুক্রবার তার নিজস্ব গরুর খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়েছিল। ওই গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় হিজড়া সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ওই বাসায় একাই থাকতেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করেন মৌসুমী। এরপর নিজের কক্ষে চলে যান। ভোররাতের দিকে পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার ঘর থেকে বাগবিতণ্ডার শব্দ শুনলেও পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘর থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় বাসার দরজা খোলা দেখতে পান তারা। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর মৌসুমীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তাদের কয়েকজনের দাবি, মৌসুমীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

হিজড়া পাখি রহমান বলেন, ‘শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘরে ঢুকে দেখি তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। জিহ্বা বের হয়ে ছিল। এরপর আশপাশের সবাইকে ডাকাডাকি করি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’

খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মৌসুমী হিজড়ার মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই রাতে তার বাসায় এক যুবক প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। হত্যায় জড়িত সন্দেহে তাকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার রহস্য জানা যাবে।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘মৌসুমী হিজড়া হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যুবককে ঘিরে তদন্ত চলছে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।’

আরও পড়ুন