১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম বাড়ার পর কোন সিগারেটের নতুন মূল্য কত

সিগারেটের বাজারে আবারও দামের পরিবর্তন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর পর এবার নিম্নস্তরের সিগারেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন সিদ্ধান্তে ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে। তবে মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের নির্ধারিত মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়ল। বাজেটে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা করার পর এবার আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হলো।

কোন স্তরের সিগারেট কত

সর্বশেষ নির্ধারণ অনুযায়ী, ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা। মধ্যম স্তরের দাম ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব বহাল রয়েছে।

যদিও বাজারের বাস্তব চিত্র সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সব সময় মিলছে না। গত জুলাইয়ে বাজার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১০ শলাকার নিম্নস্তরের ডার্বি প্রায় ৭০ টাকায়, ২০ শলাকার মধ্যম স্তরের ক্যামেল প্রায় ২০০ টাকায় এবং উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার গোল্ডলিফ স্থানভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। একই অনুসন্ধানে প্রিমিয়াম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট ৪৩০-৪৪০ টাকায় বিক্রির তথ্যও উঠে আসে।

অর্থাৎ নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি খুচরা বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ও এলাকাভেদে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে মোড়কে ছাপানো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপির চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রির বিষয়টি নিয়েও সাম্প্রতিক বাজার অনুসন্ধানে প্রশ্ন উঠেছে।

বাজেটে এক ধাক্কায় বেড়েছিল চার স্তরের দাম

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চার স্তরের সিগারেটের নির্ধারিত দাম বাড়ানো হয়। তখন নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব করা হয়।

সর্বশেষ সিদ্ধান্তে কেবল নিম্নস্তরের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই স্তরের সিগারেটের নির্ধারিত দাম বাজেটের আগের তুলনায় মোট ৫ টাকা বেড়েছে ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকা। অন্য তিন স্তরের ক্ষেত্রে বাজেটে নির্ধারিত মূল্যই বহাল রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্ত

এনবিআরের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পেছনে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিও রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সিগারেটের খুচরা মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর হিসেবে সরকার পেয়ে থাকে।

এদিকে এনবিআরের সাম্প্রতিক আরেক নির্দেশনায় ফ্লেভার-ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট নিম্নস্তরে সরবরাহের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে এ ধরনের সিগারেটকে কমপক্ষে মধ্যম স্তরের দামে রাখতে হবে, অর্থাৎ ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য কমপক্ষে ৯২ টাকা হতে হবে। এনবিআর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যগত উদ্বেগ থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে একদিকে বাজেটের পর চার স্তরেই দাম বেড়েছে, অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে সরকারি এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকায় ভোক্তাদের জন্য দোকানভেদে প্রকৃত খরচ আরও বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন