১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

চাঁদগাঁওয়ের ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’ ঘিরে প্রশ্ন

চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন চাঁদগাঁওয়ের সাধুর পাড়ায় ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি সংগঠনকে ঘিরে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই আর্থিক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির কার্যক্রম চললেও এর বৈধ নিবন্ধন, আর্থিক লেনদেনের অনুমোদন এবং সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সমিতির নামে নিয়মিতভাবে সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় বা অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ কেউ দৈনিক ভিত্তিতে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতেন। কিন্তু জমাকৃত অর্থ ফেরত চাইতে গেলে নানা টালবাহানার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

সাধুর পাড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সমিতিতে সঞ্চয় হিসেবে জমা দিয়ে আসছিলেন। প্রয়োজনের সময় সেই সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত চাইলে তা পেতে বিলম্ব করা হচ্ছে। কেউ কেউ একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, সংগঠনটির বৈধ নিবন্ধন থাকলে সেটি কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধিত, কী ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে এবং সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে- এসব বিষয় প্রকাশ করা হচ্ছে কি না।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো সংগঠন নিয়মিতভাবে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে সেই অর্থের হিসাবরক্ষণ, ব্যাংক হিসাব, অডিট এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে সদস্যদের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত দিতে জটিলতা তৈরি হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’র নিবন্ধন ও আর্থিক কার্যক্রমের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কার্যালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“সমবায় সমিতি আইন, ২০০১-এর আওতায় কোনো সমিতি পরিচালিত হলে সেটির নিবন্ধন এবং অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। আইনের ধারা ২(২০) অনুযায়ী, ‘সমবায় সমিতি’ বলতে এই আইনের অধীনে নিবন্ধিত বা নিবন্ধিত বলে গণ্য সমিতিকে বোঝায়।

এ ছাড়া ধারা ২৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত সমিতিকে সদস্য রেজিস্টার, শেয়ার রেজিস্টার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিপোজিট ও লোন রেজিস্টার এবং ক্যাশবহিসহ নির্ধারিত হিসাব ও রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হয়। ধারা ২৫ অনুযায়ী নিরীক্ষকের মাধ্যমে পরীক্ষিত উদ্বৃত্তপত্রও প্রকাশের বিধান রয়েছে।

তবে সমিতির পরিচালক সুমন ও ম্যানেজার মিন্টুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে সমিতির নিবন্ধন, সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব এবং আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’র নিবন্ধন, গঠনতন্ত্র, ব্যাংক হিসাব, সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, হিসাবরক্ষণ ও অডিটের তথ্য যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সদস্যদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

আরও পড়ুন