১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুলকলির দূষণ নিয়ে বিএনপি নেতার বক্তব্যে এমপি এনামের ক্ষোভ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ফুলকলি ফ্যাক্টরির বর্জ্য ও দুর্গন্ধ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে এক বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। শুক্রবার নাইখাইন এলাকায় কারখানাটির দূষণ পরিস্থিতি পরিদর্শনের সময় জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিনকে এ নিয়ে প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি।

দুপুরে ফুলকলি ফ্যাক্টরি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শনে যান এমপি এনামুল হক এনাম। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, কারখানাকে ঘিরে দুর্গন্ধ ও দূষণের সমস্যা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তাদের অভিযোগ, কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে আশপাশের পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের কাছেও বিষয়টি জানতে চান এমপি এনাম। এ সময় দুজনের মধ্যে কথোপকথনের একপর্যায়ে এমপি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি তো দুর্গন্ধ নেই বলেছিলে। তোমার স্বার্থ বড় নাকি জনগণের স্বার্থ বড়? তুমি ভিন্ন কথা (ভুল তথ্য) বলেছিলে কেন?’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলকলি ফ্যাক্টরির বর্জ্য সার্জেন্ট মহি আলম খালে গিয়ে পড়ছে। এতে খালের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাদের।

ফুলকলি ফ্যাক্টরির দূষণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে ইটিপি অকার্যকর রেখে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য খালে ফেলার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।

এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে দূষিত বর্জ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে ফুলকলি ফ্যাক্টরিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সময়ও এমপি এনামুল হক এনাম কারখানাটি পরিদর্শন করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইটিপি চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও নাইখাইন এলাকায় গিয়ে ফুলকলি ফ্যাক্টরির দূষণ ও দুর্গন্ধ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ শুনেছিলেন এনামুল হক এনাম। নির্বাচনের পরও তিনি একাধিকবার কারখানা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিদর্শনের সময় দূষণ ও দুর্গন্ধের সমস্যা সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথাও জানা যায়।

এদিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ফুলকলি ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ফুলকলি ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি প্রশ্ন শোনার পর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন