২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পচা খাবার, ভেজাল মিষ্টি— হাইওয়ে সুইটস-কেএফসিসহ ১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মিষ্টিতে মানহীন ঘি, খাবারে পচা মাংস-সবজি, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ, অপরিচ্ছন্ন পাত্র আর কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ— চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযানে বেরিয়ে এসেছে এমন নানা অনিয়ম।

এসব অপরাধে হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারি, কেএফসিসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানান মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম।

অভিযানে লালখানবাজারের হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে মিষ্টি তৈরিতে মানহীন ঘি ব্যবহার, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই টোস্ট-বিস্কুট বিক্রি, স্যাঁতসেঁতে ফ্লোর, অপরিচ্ছন্ন ছানা প্রক্রিয়াকরণের পাত্র এবং তেলাপোকার বিচরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জসিম মশলা মিলে মশলায় কাঠের গুঁড়া মেশানো, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং নোংরা ও পচা মরিচ দিয়ে মশলা তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারি কাজে সহযোগিতা না করার অভিযোগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে চকবাজারের বালি আর্কেড ফুড কোর্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। পচা আলু ও পচা মজেস ব্যবহার করে খাবার প্রস্তুতের দায়ে কেএফসিকে ৫০ হাজার টাকা এবং পচা আলু ও পচা আম ব্যবহারের দায়ে ফুচকা খাদককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পোড়া তেল ব্যবহার, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন, খামিতে ময়লা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে স্ট্রিট ইটসকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পচা গাজর, মেয়াদোত্তীর্ণ চাইনিজ সবজি, পচা পেঁয়াজ, নিম্নমানের সস এবং অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বক্সে গরম খাবার সংরক্ষণের দায়ে গ্রীল মাস্টার অ্যান্ড পাপাচিনোকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগি ও ব্রেডক্রাম্প, অননুমোদিত রং মেশানো মরিচ, নষ্ট বাদাম ও নিম্নমানের সস ব্যবহারের দায়ে লাজজাতকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ময়লা পাত্রে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং মেশানো মরিচ, বিষ্ঠাসহ ডিম, পচা আলু ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফল-দই-আম সংরক্ষণের দায়ে দিল্লি দরবার অ্যান্ড সালাদ লাভার্সকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চিলিসকে ৩০ হাজার, এলিগ্যান্টকে ৫০ হাজার, দ্যা বোন চাইনা ও নাইন ক্যান্ডেল ২.০কে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচা খাদ্য উপকরণ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ওয়াফেল কিং, হটডগ অ্যান্ড কোং, দ্যা ওয়াফেল, টমিয়াম, দ্যা চিকেন বক্স, ফুচকাওয়ালা অ্যান্ড জুসবার এবং দ্যা মাঞ্চগাইকেও জরিমানা করা হয়।

মেট্রোপলিটনের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, অভিযানে ভেজাল, পচা-বাসি সংরক্ষণ, উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ১৯ টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধের দায়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, এসআরবি-৭, সিএমপি ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা সহায়তা করেন।

আরও পড়ুন