২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনোয়ারা-নতুন ব্রিজ রুটে সিএনজির ‘টোকেন বাণিজ্য’, নেপথ্যে কারা?

চট্টগ্রামের শাহ আমানত নতুন ব্রিজ থেকে কর্ণফুলী হয়ে আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কে প্রাইভেট ও গ্রাম সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী পরিবহন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্টের সামনেও এসব গাড়ি চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই বৈধ কাগজপত্র, ফিটনেস সনদ ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি কথিত ‘মাসিক টোকেন’ বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব প্রাইভেট সিএনজি সড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী এলাকায় কথিত লাইনম্যান মোহাম্মদ হারুন এবং নতুন ব্রিজ এলাকায় রেজওয়ানসহ আরও কয়েকজনকে ঘিরে এ সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও কয়েকজন চালক। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে কর্ণফুলী হয়ে আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক প্রাইভেট ও গ্রাম সিএনজি যাত্রী পরিবহন করে। অনেক গাড়িতে প্রিন্ট করা কাগজের বোর্ডে নম্বর ঝোলানো থাকলেও এসব নম্বরের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গাড়িতে গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিলেট ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলার নম্বর দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু গ্রাম সিএনজির রঙ পরিবর্তন করেও সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, নতুন ব্রিজ থেকে শতাধিক প্রাইভেট সিএনজি বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। প্রতিটি গাড়ির কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে কথিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়। টাকা না দিলে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চালকদের অভিযোগ, চাতুরী চৌমুহনী সিএনজি স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুললে প্রতি গাড়ি থেকে আরও ৫০ টাকা করে দিতে হয়। মাসিক অর্থ লেনদেনের হিসাব কথিতভাবে মো. হারুনের কাছে থাকা একটি খাতায় রাখা হয় বলেও দাবি করেন কয়েকজন চালক।

একাধিক চালকের অভিযোগ, নতুন ব্রিজ এলাকায়ও কথিতভাবে টাকা আদায়ের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে রেজওয়ানসহ আরও কয়েকজন এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বলে তারা দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রেজওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসব গাড়ির অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দিয়েও গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

সরকারি চাকরিজীবী যাত্রী মেজবাহুল করিম বলেন, তিনি প্রায়ই চাতুরী চৌমুহনী হয়ে ৫০ টাকা ভাড়ায় নতুন ব্রিজ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাঁর ভাষ্য, অনেক সময় চালকদের দেখে অনভিজ্ঞ মনে হয়। গ্রাম সিএনজির চালকদের কারণেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন আগে নতুন ব্রিজ যাওয়ার পথে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পাঁচজন যাত্রীসহ একটি গাড়ি উল্টে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে আনোয়ারার চাতুরী চৌমুহনী এলাকার ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আশিকুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেট সিএনজিসহ প্রত্যেকটি গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। সেদিন পাঁচটি গাড়ি আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রাইভেট সিএনজির কাগজপত্র ঠিক থাকলে সড়কে চলাচল করতে পারে। তবে বৈধ কাগজপত্র, ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স না থাকলে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। অনেক গাড়ি আটকও করা হয়।

শাহ আমানত নতুন ব্রিজ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মোহাম্মদ তুহিন আহমেদ বলেন, নতুন ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেট সিএনজি চলাচল করে। তবে অবৈধভাবে চলাচলকারী গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং কথিত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রাইভেট ও গ্রাম সিএনজির এভাবে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি কতটা বৈধ, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র, ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ের পাশাপাশি মাসিক টাকা আদায় এবং কথিত ‘টোকেন বাণিজ্যের’ অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন