৮ অক্টোবর ২০২৬

মেয়রের প্রশ্নের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলি খুলশীর ওসি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রশ্ন ও অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিমকে বদলি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটিএসবি)-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই আদেশে নগরের আরও দুই থানার ওসি পদেও রদবদল করা হয়।

বুধবার নগরীর ঈদগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওসি আবদুর রহিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেয়র শাহাদাত। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুর রহিম বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি কীভাবে বর্তমান সময়ে খুলশী থানার ওসি হলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেয়র।

শাহাদাত বলেন, খুলশী থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওসি রহিম আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের কাউকে গ্রেপ্তার করেননি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগার দুই ভাই ওসি রহিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন।

মেয়রের এমন বক্তব্যের আগের রাতেই নগরীর মতিঝর্ণা এলাকায় চসিক ভবনে পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালাতে যায়। পুলিশের ভাষ্য, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন— এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা সেখানে গিয়েছিল। তবে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুলিশ একটি অভিযানের জন্য মতিঝর্ণা এলাকায় গিয়েছিল; সেটি বিশেষভাবে ওয়াকিলকে কেন্দ্র করে ছিল না।

ওয়াকিল হোসেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ তাকে তালিকাভুক্ত অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক, হামলা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

সম্প্রতি খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর হৃদয় হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আলোচনায় আসে ওয়াকিলের নাম। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে হৃদয়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, নিহত হৃদয় ও হামলায় জড়িতরা ওয়াকিলের অনুসারী কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

হৃদয় হত্যা মামলায় পুলিশি ভূমিকা নিয়েও ওসি রহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মেয়র শাহাদাত। তার দাবি, মামলার এক আসামিকে মারধর করে ওয়াকিলের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওসি রহিম যুবদল ও ছাত্রদলকে ‘নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছেন’ বলেও অভিযোগ করেন মেয়র।

ওয়াকিলকে নগর ভবন থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগও অস্বীকার করেন মেয়র। তিনি বলেন, ওয়াকিল তার সঙ্গে বেরিয়ে গেছেন—এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। প্রমাণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মেয়র আরও বলেন, ওয়াকিল আওয়ামী লীগের কোনো অপরাধী নন; বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলায় তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, চলতি বছরের আগস্টে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে ওয়াকিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করতে ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর ওয়্যারলেস এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ওয়াকিল ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পুলিশের। এতে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হওয়ার পর ১৩ সেপ্টেম্বর ওয়াকিলের বাবা মোহাম্মদ জাভেদ ওসি আবদুর রহিমসহ খুলশী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ওয়াকিলকে মারধর ও তাদের বাড়ির মালামাল ভাঙচুরের কথা বলা হয়। পরে আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

এদিকে ওসি আবদুর রহিমের বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে সিএমপি। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, রহিমকে সিটিএসবিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। মেয়রের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ বদলি কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নিয়মিত বদলি এবং মেয়র কী বলেছেন, তা তিনি শোনেননি।

চসিক মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আবদুর রহিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওয়াকিল হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন