৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে, আজ ১৫ বছরের চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

চুক্তির খসড়া প্রস্তাবে গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়। এর আগে এনসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি জটিলতা থাকলেও গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়।

এতদিন এনসিটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছিল।

চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে স্থানীয় বন্দর রক্ষা কমিটি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাদের অভিযোগ, জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়েই বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু চুক্তির আর্থিক শর্ত ও দায়বদ্ধতার তথ্য প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা চুক্তিটি সম্পন্ন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা ও অপারেশনাল কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ এবং তা সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা (আইএসপিএস) কোড এবং বন্দরের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তারা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অন্যদিকে এনসিটি হস্তান্তরের তোড়জোড়ের মধ্যেই বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলামযোগ্য পণ্য খালাসের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব আমদানিকারক পণ্য খালাস করেননি, আইন অনুযায়ী সেসব পণ্য পুনঃনিলাম অথবা ধ্বংস করা হবে।

কাস্টমসের দাবি, বন্দরের কনটেইনার জট কমানো এবং আটকে থাকা রাজস্ব আদায়ের স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন