চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গুলি করে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) হত্যাকাণ্ড এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দ্রুততম সময়ে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ১ নম্বর আসামি উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. আরিফ হোসেন (২৯), ফখরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল মান্নান (২৮), মো. ইফতেখার (৩৫), আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) এবং নুর আহাম্মদ রনি (২৬)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে খাবার শেষে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে স্থানীয় যুবদলের সহসম্পাদক সাদ্দামের পুরোনো অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পূর্ব থেকেই প্রতিপক্ষ আরিফ ও তাঁর গ্রুপের সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। বাপ্পি ও তাঁর বন্ধু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁদের গতিপথ রোধ করে এবং বাইক থেকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করে।
একপর্যায়ে আরিফ হোসেন বাপ্পির গলায় গুলি করেন এবং অন্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে থাকা ইমন গুলিবিদ্ধ হয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করলেও বাপ্পি মারাত্মক আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁদের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বিক্রি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল নেতা সাদ্দামের গ্রুপের সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেনের গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে বাপ্পিকে নিজেদের পথের বাধা মনে করে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন আগে থেকেই ওত পেতে থাকা সশস্ত্র হামলাকারীরা বাপ্পির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে। একই সময়ে শাওনও তাঁদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, সমুদ্র থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার বিস্তার অত্যধিক হারে বড়ে গেছে। আর এসব বন্ধ না হলে এসব মারামারি ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি এলাকাকে অপরাধমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।














