৩১ মার্চ ২০২৬

পতেঙ্গা সৈকতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সন্ধ্যা নামলেই ভূতুড়ে পরিবেশ

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঢাকঢোল পিটিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ওয়াকওয়ে উন্মুক্ত হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সন্ধ্যা নামলেই ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো সৈকত এলাকাজুড়ে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সন্ধ্যার পর থেকে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে পতেঙ্গা সৈকত।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এটির উদ্বোধনের পর থেকেই পর্যটকের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠে এই সৈকত। বিশেষ করে নান্দনিক সড়কবাতির আলোয় রাতের সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে মধ্যরাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। অথচ বিগত পনের দিন ধরে জ্বলছে না সৈকতের সড়কবাতিগুলো। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো এলাকা। ফলে এমন ভুতুড়ে পরিবেশের কারণে সন্ধ্যার পর ভাটা পড়েছে পর্যটক আনাগোনায়।

সড়কবাতি থেকেও কেন জ্বলছে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পতেঙ্গা জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, পতেঙ্গ সমুদ্র সৈকতের বিদ্যুৎ বিরতরণ ব্যবস্থা দুইটি ভাগে ভাগ করা। একটি সোলার ও অপরটি বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়। সোলার যে অংশটি সেটি সমুদ্রমুখী আর বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে যেটি চলে সেটি সৈকতের পথচারী হাঁটাচলা করার স্থানে স্থাপিত। পুরো বিষয়টি তদারকি করা হয় মেগা প্রজেক্টের অর্থায়নে। ইতিমধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৯ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে, যেগুলো সিডিএ পরিশোধ করার কথা থাকলেও করছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার বিদ্যুৎ-সংযোগ বর্তমানে বন্ধ আছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চল চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘সিডিএর অনুরোধে পতেঙ্গা সৈকতের আলোকায়নে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হলেও এখন সেই বিদ্যুৎ বিল দিতে অনীহা সিডিএর। আমরা সিডিএ চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি জনসম্পৃক্ত এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চাইনি। তবে সিডিএ নিজ থেকেই যখন সৈকতের বিদ্যুৎ সংযোগ রাখতে চায় না তখন আমাদের করার কী আছে?’

এ প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে উপলক্ষে তাড়াহুড়ো করে বিদ্যুৎ বিভাগ পতেঙ্গা সৈকতে সড়কবাতি লাগিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা নিজেরাই সড়কবাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। আমাদের প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই তখন আমরা বৈদ্যুতিক সংযোগসহ সড়কবাতি লাগাবো।’

পিডিবি সিডিএর কাছে যে বকেয়া বিল পাওয়ার কথা বলছে সেই প্রসঙ্গে জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘ওই সময় তো আমরা এসব বাতি লাগাইনি। পিডিবিই এসব বাতি লাগিয়েছিল আর আমাদের এই খাতে কোনও বরাদ্দ নেই।’

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন