২১ মার্চ ২০২৬

টেকনাফে যুবলীগ নেতা হত্যা: আরো ২ অভিযুক্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা জামিদুড়া এলাকায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে জাদিমুড়া চাইল্ড ফ্রেন্ডলী স্পেস অফিসের পিছনে পাহাড়ের পানির ট্যাংক এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তারাও যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যায় অভিযুক্ত আসামী।

গোলাগুলিতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল হতে ২টি এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র) ৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

নিহতরা হলেন, টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিষ্টার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-সি, রুম নং- ১, বাসা নং- ৮৩৮ এর এমআরসি- ৪৫৯৫০ নম্বর বাসিন্দা ও মিয়ানমারের আকিয়াবের মংডুর বুসিদং হাসুরতার জমির আহাম্মদের ছেলে মো. আব্দুল করিম (২৪) ও একই ক্যাম্পের ব্লক-সি’র রুম নং- ১/২, বাসা নং- ৮৮০/৬০, এমআরসি- ৩৫১২২ নম্বর বাসিন্দা ও মিয়ানমারের বুসিদং পুইমালীর সৈয়দ হোসেনের ছেলে নেছার আহাম্মদ প্রকাশ নেছার ডাকাত (২৭)।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, যুবলীগ নেতা ফারুক হত্যাসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী ডাকাতদল টেকনাফের হ্নীলার জামিদুড়া চাইল্ড ফেন্ডলী স্পেস অফিসের পিছনে পাহাড়ের উপরে পানির ট্যাংকির নিচে অবস্থান করার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অস্ত্রধারী দৃষ্কৃতিকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে এএসআই কাজী সাইফ উদ্দিন, কনস্টেবল নাবিল ও রবিউল ইসলাম আহত হয়। জীবন ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশও ২৮ রাউন্ড গুলি চালায়।

তিনি বলেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে আমরা গুলি করা বন্ধ করি এবং ঘটনাস্থল হইতে অস্ত্রধারী দৃষ্কৃতিকারীরা পাহাড়ের দিকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দুজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া যায়। উপস্থিত জনতার মাঝে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি ও সাধারণ রোহিঙ্গারা গুলিবিদ্ধ দেহগুলো করিম ও নেছার ডাকাত বলে সনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকা তল্লাশি করে ২টি এলজি, ৭রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ এবং ৯রাউন্ড কার্তুজের খোসা পাওয়া যায়। গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদেরকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাহাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। শুক্রবার ভোররাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আরো জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক আইনে মামলা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে একদল রোহিঙ্গা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে তুলে পাহাড়ের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন ২৩ আগস্ট মুহাম্মদ শাহ ও আব্দুস শুক্কুর নামে দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী একই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর ভোরে ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ