সাইফুল ইসলাম, সন্দ্বীপ »
কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকা সড়ক, সামান্য বৃষ্টিতে যে কেউ ভীমড়ি খেতে বাধ্য, মূল সড়ক থেকে ডুকলেই দেখাযায় জনপদের মাঝ দিয়ে উত্তরে চলে গিয়েছে সরু কোন ‘খাল’, অথচ এটি সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন সহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাগোয়া সড়ক এবং সন্দ্বীপের সব’চে বড় আবাসিক এলাকার একমাত্র সড়ক।
কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকা সড়কটি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের পূর্বপাশ দিয়ে দেলোয়ার খাঁ মূল সড়ক থেকে কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকার মাঝে দিয়ে তিনহাজার ফুট এগিয়ে বাঘেরহাট সড়কের সেতুর সাথে গিয়ে মিলেছে। উত্তর সন্দ্বীপ হতে উপজেলা সদর বা কমপ্লেক্স যাতায়তের সব’চে গুরুত্বপূর্ণ ও কাছের সড়ক এটি।
এই সড়কটি আবাসিক এলাকার একমাত্র সড়ক এবং তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র পথ সাথে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়ক, অথচ গত সারে চৌদ্দ বছরে হয়নি কোন সংস্কার! নেই কোন সড়ক বাতি ও পয় নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা, এমনকি এই সড়ক দু’ধারে পুরো এলাকায় নেই বিদ্যুৎ-ও!
বর্ষায় এটি একটি খাল, থাকে হাঁটুর উপরে পানি আর বছরের বাকি সময় ইট-শুরকীর কংকাল! ২০০১ সালে সড়কটির ৫০০ ফুট পাকা করণের পর ২০০৪ সালে ৩০০০ ফুট রাস্তার পুরোটাই পাকাকরণ করা হয় যা পাকাকরণের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই সম্পূর্ণই ভেঙ্গে ইট-শুরকীর কংকালে পরিনত হয়। খুব বাজে মানের নির্মান গঠনের কারণেই সড়কটির এমন বেহাল দশা যার ভুক্তভোগী অত্র এলাকাবাসী এমনটাই বলছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এখানে রাস্তা বলতে অবশিষ্ট কিছু নেই, হাঁটুর উপরে পানি দেখে মনেহয় সরু লম্বা কোন খাল! ভিতরে বহুস্থানে চোঁখে পরলো মোটরবাইক-সিএনজি-রিক্সা-সাইকেল রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে পরিস্কার করছেন অনেকেই! রাস্তার দু’পাশের রাস্তার জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি বা বাড়ির দেয়াল।
মোমেন সেকান্দর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সাবিহা এবং তার সহপাঠীরা বলেন, একে এটি ভাঙ্গাচোড়া সড়ক তার উপর বার্ষায় হাঁটু পানি ডিঙ্গিয়ে স্কুল যাতায়াতে আমাদের খুবই সমস্যা হয়, গতকালও ডোবা রাস্তায় স্কুলে যেতে গিয়ে থানা উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গর্তে পরে তার একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়, এভাবেই প্রতিনিয়ত চরম ঝুকি নিয়ে এই রাস্তায় আমাদেরকে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।
এলাকার বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বাংলাধারাকে বলেন, নির্মানের মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তাটির কোন সংস্কার করা হয়নি, বারবার জনপ্রতিনিধিদের ধরনা দিয়েও এর কোন প্রতিকার আমরা পাইনি। আবাসিক এলাকা সহ সন্দ্বীপের উত্তরাঞ্চল হতে যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কার বা পুননির্মাণের কোন উদ্দ্যোগ নেয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন এলাকাবাসী বলেন, বিধ্বস্ত এই রাস্তায় নেই কোন সড়ক বাতি এবং যাতায়াতে অনিরাপত্তার কারণে জনজীবন যেমন বিপর্যস্থ তেমনি চলাচল কমে যাওয়ায় এই সড়ক ঘিরে বেড়েছে বখাটেদের উপদ্রব সাথে মাদকসেবি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ অবস্থান ও জনজীবনে বেড়েছে অনিরাপত্তা। আপনারা জেনেছেন হয়তো গত ক’মাসে ডাকাতি প্রস্তুতি কালে দু’বার ডাকাত গ্রেফতার করেছেন পুলিশ বাহিনী, কয়েকবার চালিয়েছেন মাদকবিরোধী অভিযান অথচ এসব অপকর্মকারীরা কেউই এই এলাকার বাসিন্দা নয়। সড়ক বাতি না থাকায় পুরো রাস্তাটি রাতে অন্ধকার এক চোরা গলিতে পরিনত হয়, এলাকায় যারা নিরাপত্তার কথা ভেবে দেয়াল বাতি লাগিয়েছে সেসবও ভেঙ্গে দিয়েছে বখাটেদের দল! এলাকার ছেলেপেলেরা মিলে নিজ উদ্দ্যেগে কিছু সড়ক বাতি লাগালেও সেসব ভেঙ্গে নষ্ট করে দিয়েছে বখাটেরা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র জাফর উল্যা টিটু বাংলাধারাকে জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বহুদিন ধরেই সংস্কার বিহীন পরে রয়েছে, এখন এমন অবস্থায় রয়েছে এটি সংস্কার নয় সম্পূর্ণ পুননির্মাণ করতে হবে। বহুদিন ধরেই পৌরসভা রাস্তা নির্মানের উদ্দ্যোগ নিলেও এলাকাবাসীর অসহযোগিতার জন্যই পুননির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। অথচ সন্দ্বীপের উত্তর অংশের লোকজন কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকাসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়।
তিনি বলেন, রাস্তার দু’পাশে পুরো রাস্তার জমি দখল করে বাড়ি বা বাড়ির দেয়াল গড়ে তুলেছে এলাকাবাসী, বারবার এলাকাবাসীদের নোটিশ করা হলেও তারা সে নোটিশের সারা দেননি, এমনকি উক্ত এলাকার মসজিদে গিয়েও আমি ব্যক্তিগতভাবে এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে ডেকে ছিলাম সেখানেও তারা আসেননি! অপরদিকে দখলকৃত জমি উদ্ধার করে রাস্তা করতে গেলেও বিভিন্ন রকমের অপপ্রচার ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করবে দখলকারীরা। অথচ রাস্তা না থাকায় কষ্ট করছেন এলাকাবাসী এবং এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বেহাল অবস্থার জন্য লোকজনের যাতায়াত কমে গেছে আর উৎপাত বেড়েছে বখাটেদের।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান অর্থ বছরে এই রাস্তাটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি। এবং রাস্তার দখলকৃত জমি আইনি প্রক্রিয়ায় দখলমুক্ত করে যথাসম্ভব অধিকাংশ রাস্তাটিই নতুন করে এই অর্থ বাজেটের মধ্যেই নির্মান করা হবে সড়ক বাতিও স্থাপন করা হবে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












