৩১ মার্চ ২০২৬

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ৩ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আটক

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

সুন্দরী নারীর প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তিন তরুন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ইউএসটিসির সামনে থেকে একজনকে এবং আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনি এলাকা থেকে অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চট্টগ্রাম কলেজ ইসলামের ইতিহাস বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইফতেখারুল আলম (২৫), ইউএসটিসির ইইই বিভাগে তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র তালিম উদ্দিন (২৪) এবং আইআইইউসি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করা সালেহিন আরাফাত (২৮)।

পুলিশ জানায়, হাসান তারেক (৩৭) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দুই সপ্তাহ আগে ইসরাত (১৮) নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইলের নম্বর আদান-প্রদান হয়। কথাবার্তা চলতে থাকে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাসানকে ইসরাতের বাসায় যেতে বলা হয়।

কথামতো হাসান আকবরশাহ থানা এলাকার বিশ্বকলোনী ডি ব্লকে ইসরাতের বাসায় যান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ চার ব্যক্তি ইসরাতের বাসায় ঢুকে। এসেই তারা হাসানকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে, পুলিশের হাতে তুলে দেবে ইত্যাদি বলে ভয় দেখাতে থাকে।

একপর্যায়ে হাসান বিকাশের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা এনে নেয়। কিন্তু আসামিরা এত অল্প টাকা নিতে আপত্তি জানালে হাসান তার বোন শারমিন ফারজানাকে ফোন করে তার দুটি চেক নিয়ে আসতে বলে। ফোনে হাসানের কথাবার্তায় তার বোন শারমিনের সন্দেহ হলে তিনি ৯৯৯-এ জানালে খুলশী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ আসে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরী বলেন, আভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশের কথামতো শারমিন আসামিদের ফোন করে ব্ল্যাংক চেক নিতে আসতে বলে। খুলশী থানা পুলিশ ইউএসটিসির সামনে অবস্থান নিয়ে ফাঁদে পেতে চেক নিতে আসা তালিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, তালিমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাসানকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইসরাত এবং মুহাম্মদ রুমি নামের আরও দুজন পলাতক আছেন।

ওসি প্রণব চৌধুরী আরো বলেন, ঘটনাটি আকবর শাহ থানা এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় আসামিদের ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আসমিদের বিরুদ্ধে ঘটনার শিকার হাসানের বোন ফারজানা বাদি হয়ে আকবর শাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন