বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানাধীন কুমিরা এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী মোঃ ফারুক (১৯) কে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব -৭।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে মোঃ ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। ফারুক বাড়বকুন্ড থানার নতুন পাড়া (কামাল সওদাগরের বাড়ি) এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।
র্যাব-৭ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এলাকার গরীবের ডাক্তার নামে পরিচিত ডাক্তার মোঃ শাহ আলম, যার পরিত্যক্ত লাশ গত ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন কুমিরা এলাকায় পাওয়া যায়।
তাৎক্ষনিকভাবে ধারণা করা হয়, আসামীরা ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ বর্ণিত স্থানে ফেলে রেখে যায়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে র্যাব-৭ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে, র্যাব-৭ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী লেগুনার ড্রাইভার মোঃ ফারুক (১৯) চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন রেল স্টেশন এলাকায় অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বর্নিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে আসামী মোঃ ফারুক (১৯) কে গ্রেফতার করা হয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ‘‘বিন মনসুর পরিবহন’ নামক লেগুনাটি জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে। সে জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক রাত ৮ টার দিকে তার সহযোগীরা তাকে ফোন করে তার চালিত লেগুনা নিয়ে চেরাকান্দী এলাকায় যাওয়ার জন্য বলে। উক্ত এলাকায় যাওয়ার পর অন্যান্য আসামীরা গাড়িতে উঠে এবং তারা গাড়িতে যাত্রী নেওয়ার জন্য রাস্তায় গাড়ি চালাতে থাকে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে ছোট কুমিরা আসার পর একজন যাত্রী গাড়ি থামানোর জন্য সংকেত দিলে তারা গাড়িটি থামিয়ে যাত্রীকে গাড়িতে নেয়। এরপর গাড়িটি কে-বাই নামক জায়গায় গেলে তাদের আরো কিছু সহযোগী গাড়িতে উঠে।
গাড়ি চালাতে চালাতে রয়েল গেইট পর্যন্ত যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা ছিনতাইকারী চক্র ভিকটিম ডাক্তার মোঃ শাহ আলমের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডাক্তার মোঃ শাহ আলম টাকা পয়সা ও জিনিসপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ভিকটিমকে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর তারা গাড়িটি নিয়ে কুমিরা ঘাটঘর এলাকায় গিয়ে ভিকটিমের লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।
পরবর্তীতে আসামীরা লেগুনাটি নিয়ে সাগরপাড়ে যায় এবং সেখানে লেগুনাটি ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ধোলাই করে।
উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ ফারুক (১৯) আজ বিকেল ৪ টার দিকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রাম এ ফৌজদারি কার্যবিধি-১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












