২১ মার্চ ২০২৬

২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) গণভবন থেকে  এ ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল।

আর এর মধ্য দিয়ে বহু শিক্ষক-কর্মচারীর বহু দিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। বুধবার প্রধানমন্ত্রী  ঘোষণা দিলেও জুলাই থেকে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার ২৭৬৮ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫০–এর মতো বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ঘোষণা আসল।

এমপিওভুক্তির দাবিতে ২০১০ সালের পর থেকেই থেমে থেমে আন্দোলন করে আসছেন এমপিওভুক্ত নয়, এমন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–কর্মচারীরা।

ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের এমপিও করা হয়েছে আগামীতে তাদেরকে নীতিমালাগুলো  পূরণ করতে হবে। না হলে এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে। এমপিওভুক্তির পর শিক্ষার মান কমে যাবে তা হবে না। এ সুযোগ অব্যাহত রাখতে শিক্ষকদের ঠিকমতো কাজ করতে হবে। এমপিওভুক্ত যারা তাদের টাকা সরাসরি প্রতিষ্ঠানে চলে যেতো, সেসময় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঠিকমতো বেতন পেতেন না-এ অভিযোগ আসত। এরপর সরকার  যার যার নামে মাসিক পেমেন্ট অর্ডার করে টাকা পাঠাতে শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, কীভাবে শিক্ষাকে নিয়োগ হবে সেই পরিকল্পনা করছে সরকার। এখন যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কিন্তু সবগুলোর মান ভালো নয়। স্কুলগুলো যাতে তাদের মান ঠিক রাখে তাই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে একটা স্কুলে যেতে হয়। তাই ওইসব অঞ্চলের নীতিমালা বিশেষ ক্ষেত্রে শিথিল করে দেয়া হয়। যাতে সেখানকার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে যদি মানসম্মত এবং ভালো শিক্ষা দেয়া না যায়, তবে  দেশ ও জাতি ভালোভাবে গড়ে উঠবে না। নীতিমালা করা এবং সে অনুযায়ী স্কুলগুলোর যাচাই-বাছাই করতে কিছু সময় লেগেছে। যাচাই-বাছাই করে দুই হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে যারা এমপিওভুক্ত হতে চান তাদের অবশ্যই নীতিমালার নির্দেশনা পূরণ করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, সরকার দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে চায়, তাই শিক্ষাকে বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একটি শিক্ষিত জাতিই পারে দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে। তাই শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে। ছেলেমেয়েরা যাতে আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। অনলাইনে অনেকে চাকরি করতে পারছে। সরকার সেভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও সনদের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। সনদ না থাকাতে তারা কাজ পেতো না। প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ