৩১ মার্চ ২০২৬

যুবলীগের দুপক্ষের মারামারিতে লালদীঘি সমাবেশ পণ্ড

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আয়োজিত আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে পারেননি। এর আগে যুবলীগের একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা পণ্ড করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে লালদীঘি মাঠে আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভার শুরুতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর যথারীতি সভার কার্যক্রম শুরু হয়। যুবলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি শুরুর পর শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বক্তব্য না দিয়ে চলে যান।

প্রধান অতিথির মঞ্চে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

নগর যুবলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি মহল ইন্ধন দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত তৈরি করে সভা পণ্ড করেছে। চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের বড় অংশ নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায়ও প্রধান অতিথি করা হয়েছিল মহিউদ্দিনের ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে। এ কারণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধী অংশ হিসেবে পরিচিতরা সভা পণ্ড করতে ইন্ধন দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর লালদিঘীর মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করেছিল।

বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু। যুগ্ম আহ্বায়ক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় সভা শুরুর পর ৫ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। এরা হলেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু ও সৈয়দ মাহমুদুল হক, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন বাচ্চু।

সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আলতাফ হোসেন বাচ্চুর বক্তব্যে চলাকালে মাঠে দুপক্ষে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। এরপর উভপক্ষের তরুণ-যুবকেরা একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইটের টুকরা ছুঁড়তে শুরু করে। ১০ মিনিট উভয়পক্ষে সংঘাতের পর পুলিশ উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয়। এর আগেই মঞ্চ ছেড়ে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে অতিথি করা হলেও তিনি সভায় যাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর যুবলীগের এক নেতা জানান, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মোবারক আলী একটি মিছিল নিয়ে সভায় এসেছিলেন। তিনি প্রবেশের সময় গেইটে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এর সূত্র ধরে পরে আবারও মারামারি হয়েছে। মোবারক আলীসহ কমপক্ষে পাঁচ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ’ খানেক যুবক পকেট থেকে পাথর বের করে ছুঁড়ে মারছিল। দুপুরের দিকে এই যুবকরা মঞ্চের সামনে মাঠে অবস্থান নেয়। এরপর সভা চলাকালে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন