৩১ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ১৬ জনের পরিচয় সনাক্ত

বাংলাধারা ডেস্ক »  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশন এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করেছে প্রশাসন। এদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়, পাঁচজনের বাড়ি চাঁদপুরে। বাকি তিনজনের বাড়ি সিলেট, মৌলভীবাজার ও নোয়াখালী জেলায়। পরে স্থানীয় বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মরদেহগুলো  নিহত ১৩ জনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়। তথ্যসেবা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, নিহতদের স্বজনরা এসে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন।

নিহতরা হলেন- হবিগঞ্জ শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত (১২), আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২),চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের পশ্চিম তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার (২৫), মিরাশী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩০) ও একই উপজেলার আহমদাবাদ গ্রামের পিয়ারা বেগম (৩২)।

বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার আড়াই বছরের মেয়ে আদিবা আক্তার সোহা ওরফে ছোঁয়ামণি ও মদনমুরত গ্রামের আল-আমিন (৩০)।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রিপন মিয়া (২৫), নোয়াখালীর মাইজদির রবি হরিজন (২৩) ও মৌলভীবাজারের জাহেদা খাতুন (৩০)।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান (৫০) ও তাঁর স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২), সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের প্রবাসী বিল্লাল বেপারীর মেয়ে ও শহরের নাজিরপাড়া দেওয়ান বাড়ীর মোহন দেওয়ানের স্ত্রী ফারজানা (১৮), হাইমচর উপজেলার কাকলী (২০) ও মরিয়ম (৪)।

মঙ্গলবার(১২ নভেম্বর)কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করা ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের বেশ কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি বগি প্রায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। হতাহতদের বেশিরভাগই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের তিনটি বগির যাত্রী ছিলেন।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন। আহতদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছান রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন।

পরে রেলপথমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান,  দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর থেকে চারটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটিসহ মোট পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার নিহতদের শনাক্ত করে তাদের পরিবারের সদস্যদের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে অর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া আহতরা চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে পাবেন বলেও জানান মন্ত্রী। । এর আগে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন