২১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে জাল সনদে নারীকে ২ লাখ টাকায় এমপিও ভুক্ত করালেন প্রধান শিক্ষক!

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি মতে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এমপিও ভুক্তিতে দুটি পাবলিক পরিক্ষায় তৃতীয় শ্রেণীতে পাশের সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের সাগরমণি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সীমা বড়ুয়া এইচএসসি এবং ডিগ্রী পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েও এমপিও ভুক্ত হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালাকে ফাঁকি দিতে তার পাশের সনদ জাল করে দ্বিতীয় শ্রেণী দেখিয়ে টাকার মাধ্যমে তাকে এমপিও ভূক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি জানাজানি হবার পর শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নৈতিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম দুই লাখ টাকা নিয়ে কমিটির অগোচরে সনদ জাল করে সীমাকে এমপিও ভুক্ত হতে সহায়তা করেছেন। সীমা বড়–য়ার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হাজী নুরুল ইসলাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবরে চলতি বছরের ৬ মে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সীমা বড়ুয়ার ( ইনডেক্স নং-১১১৯৩৭০, ইনস্টিটিউশন আইডি-০৩০২১৩১২০২) শিক্ষাগত যোগ্যতার এইচএসসি ও ডিগ্রি এ দুটিতে তৃতীয় বিভাগে পাশ করেন। যা এমপিও ভুক্তি হতে প্রধান বাধা। নীতিমালা মতে এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী এ তিন পরিক্ষার যেকোন একটিতে তৃতীয় শ্রেণী বা বিভাগ এমপিও ভূক্তিতে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু সীমা বড়–য়ার দুটিতে তৃতীয় বিভাগ রয়েছে। অথচ ২০১৫ সালে তিনি এমপিও ভ‚ক্ত হয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মাউশি’র কর্মকর্তাদের ঘুষের কথা বলে সীমার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে এমপিও ভূক্ত করিয়েছেন। এ অবস্থায় বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম ঘুষ নেননি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা সীমা বড়ুয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষক হিসেবে সাগরমণি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের এক বছরের মাথায় ২০১৫ সালে এমপিও ভ‚ক্ত হন সীমা বড়–য়া। দ্রæত সময়ের মধ্যে এমপিও ভ‚ক্ত হওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করেন শিক্ষকমহল। একই সাথে দুটি পরিক্ষায় তৃতীয় শ্রেণী থাকার পরও কিভাবে এমপিও ভ‚ক্ত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, সীমা বড়–য়া কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯৪ সালে তৃতীয় শ্রেণীতে ডিগ্রী পাশ করেন।
সনদের বিষয়ে সীমা বড়ুয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পুরোপরি সত্য নয় দাবি করে বলেন, আমি এইচএসসিতে তৃতীয় বিভাগ পেয়েছি। এসএসসি ও ডিগ্রীতে দ্বিতীয় বিভাগ রয়েছে।

কিন্তু কক্সবাজার সরকারি কলেজের তথ্য সূত্র মতে ডিগ্রী পরিক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি তখন ডিগ্রী পরিক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি পালি (ধর্মীয় শিক্ষার উপর) বিষয়ে ডিপ্লোমা করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সাগরমণি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। এখানে কোন বিধি লঙ্গন হয়নি। আমাকে বিধি মতে এমপিও ভ‚ক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হাজী নুরুল ইসলাম বলেন, তথ্য গোপন রেখে প্রধান শিক্ষক সীমা বড়ুয়াকে নিয়োগ দেয়। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ আবেদন করেছি।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, সীমার বিষয়টি এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূলত সাবেক সভাপতি ও আমাদের মাঝে একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিলো। এখন বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তারপরও যদি কেউ অভিযোগ দেয় তবে আমার করার কিছু নেই। তবে, বিষয়টি নিয়ে লেখা-লেখী করলে একজন নারী শিক্ষিকার ক্ষতি হবে এটা উল্লেখ করে বলেন, সব জায়গায় একটু-আধটু অনিয়ম থাকে। এটি এড়িয়ে যাবার অনুরোধ জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সালেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এখনো হাতে আসেনি। এরপরও যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে অভিযুক্তের এমপিও ভুক্তি বাতিল হবে। সাথে তার এমপিও ভ‚ক্তিতে যারা সহযোগিতা করেছেন সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন