কক্সবাজার প্রতিনিধি »
অসুস্থ শ্বাশুড়িকে দেখতে এসে ধান ক্ষেতে বসানো ফাঁদের তারের বিদ্যুতে স্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক ভাবে লাশ হলেন আয়াতুল্লাহ (৩৫) নামের এক যুবক।
বুধবার সকালে কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মধ্যম গজালিয়া রাজঘাট এলাকার ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে কেউ জানাতে পারেননি।
মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার আয়াত উল্লাহ সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের কৈলাসেরঘোনা এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি প্রবাসে যাবার জন্য মেডিকেল দিয়ে ঢাকা থেকে ফিরে নিজ বাড়িতে না গিয়ে অসুস্থ শাশুরিকে দেখতে গিয়ে লাশ হয়েছেন। নিহত আয়াত উল্লাহ ২ সন্তানের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, আয়াত উল্লাহ বিদেশ যাবার প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবার দিনগত রাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠে। চকরিয়া পর্যন্ত পৌছে জানতে পারেন তার শাশুড়ি অসুস্থ। ইত্যবসরে বাড়িতে ফোনদিয়ে মা ও ভাবীর মুঠোফোনও বন্ধ পান। তাই বুধবার ভোররাতে ইসলামাবাদের ফকিরাবাজার এলাকায় নেমে বাজারের পূর্বপাশে মধ্যম গজালিয়া গ্রামে শ্বশুর হাজী মমতাজ আহমদের বাসার উদ্দেশ্যে যান।
শ্বশুর বাড়ির পাশাপাশি শাহ আলম ও তার ছেলে নুরুল আমিন বণ্যপ্রাণী থেকে ধান রক্ষায় অবৈধ ভাবে জিআই তারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বসায়। বিলের আটি(আইল) দিয়ে যাবার সময় অজ্ঞাত ভাবে জিআই তারের সেই ফাঁদে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আয়াত উল্লাহ। ফজরের নামাজের পর স্থানীয়রা তার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানাগেছে কৃষকের পাতানো বৈছ্যুতিক জিআই তারে জড়িয়ে যুবকের মত্যু হয়েছে। তার মরদেহের পাশে বিভিন্ন ধরণের ফলের পুটলাও পাওয়া যায়।
এদিকে, সহজ-সরল শান্ত ও অমায়িক আয়াত উল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তারগ্রাম ও শ্বশুর বাড়ির এলাকার লোকজন এবং স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












