২১ মার্চ ২০২৬

লামায় সংঘবদ্ধ হামলা, লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা

লামা প্রতিনিধি »

লামায় অসহায় কৃষকের পাহাড়ি জমিতে সংঘবদ্ধ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মো. ওসমানের পক্ষে তার বড় বোন ফাতেমা বেগম (৪২) বাদী হয়ে লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন, লামা কোর্টের বাদী পক্ষের সিনিয়র আইনজীবি মোহাম্মদ জাফর আলম।

মামলার সূত্রে জানা যায়, কৃষক মো. ওসমান ২৯৫নং লামা মৌজার আর/৯১নং হোল্ডিং এর আন্দর পাঁচ একর ৩য় শ্রেণীর পাহাড়ি জমি গাছপালাসহ ক্রয় করে বিগত ৪ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে। গত ২৯ আগষ্ট ১৯ইং তারিখে রেজিষ্টার্ড বায়নানামা দলিল নং- ৩৯৯/২০১৯ সম্পাদন করেন। ক্রেতা ওসমান জমি ক্রয়ের পর থেকে বহু অর্থ ও শ্রম ব্যয়ে জঙ্গল পরিষ্কার, গাছ লাগিয়ে ও খামার বাড়ি নির্মাণ করে।

এদিকে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক সোহরাব হোসেন জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে গত ১৬ নভেম্বর ১৯ইং শনিবার দুপুর ১২টায় নুরুজ্জামান ও আব্দু রহমান সহ আরো ৩০/৪০ জন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীরা খামার বাড়ি ভেঙ্গে সম্পূর্ণ মালামাল কাঁধে বোঝাই করে নিয়ে যায়, যার মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া উক্ত জমি হতে ২ বছর বয়সী ৩৫০টি বাইজ্জা বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। যার মূল্য ৭০ হাজার টাকা।

মামলার বাদী ফাতেমা বেগম বলেন, আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৪০ বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ধারালো দা, গদু দা, কোদাল, খন্তা, লোহার রড, লাঠি-সোঠা নিয়ে আমার বোন জামাতার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা লুটপাট চালায়। তারা আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আসামীগণ আমার চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে। সন্ত্রাসীরা আমার পরিধীয় কাপড় ছোপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে। আমার শরীরের সর্বাঙ্গে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি দিয়ে আহত করেছে। আমাকে উদ্ধার করতে আমার ভাই আশেকুর রহমান ও ইছহাক মিয়া আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের মেরে রক্তাক্ত করে। পরে লামা থানা পুলিশ এসে ঘটনার নিয়ন্ত্রণ করে।

জায়গার মালিক মো. ওসমান বলেন, তারা হামলা চালিয়ে আমার খামার ঘর, গাছ-বাঁশ কেটে নিয়ে গেছে। আমরা আইনের কাছে যাওয়া তারা আমাদের হুমকী ধমকি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আইনের সহায়তা কামনা করি।

এই বিষয়ে মামলার আসামী সোহরাব হোসেন বলেন, এই জায়গার বিষয়ে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেয়া আছে। সোমবার (১৮ নভেম্বর) ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিরোধ মীমাংসার কথা ছিল। তার আগে শুক্রবার তারা বিরোধীয় জায়গায় খামার ঘর তৈরি করে বাদীপক্ষ। তাই আমরা শনিবার সে খামার ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছি।

হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, এই বিষয়ে উভয় পক্ষ মামলা করেছে বলে শুনেছি। হামলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, লামা থানা পুলিশের এএসআই রাম প্রসাদ দাশ।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে দুইপক্ষ থানায় ডেকে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন