২১ মার্চ ২০২৬

পরিবহন শ্রমিক আইন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অরোধ

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর বেশ কিছুর ধারার বিরোধিতা করে তা সংশোধনের দাবিতে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে।

চট্রগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও কাচঁপুর পয়েন্টে এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও চাষাঢ়ায় ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চট্টগ্রামসহ ঢাকার সঙ্গে বাইরের জেলাগুলোর যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। ঢাকার অনেক ডিপো থেকেও ছাড়া হচ্ছে না বাস। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারাণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘটে অচলাবস্থার পথে চট্টগ্রাম বন্দরও।

বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বাসও বন্ধও রেখেছেন এ সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিকরা।

পরিবহন শ্রমিকদের ‘স্বেচ্ছা কর্মবিরতিতে’ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরের বেশ কিছু জেলায় গত দুদিন ধরেই বাস চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে দেশের ৯৩ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। আর কনটেইনার পরিবহন হয় ৯৮ শতাংশ। এই বন্দরের যে কোনো প্রভাব পুরো দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো হচ্ছে। তবে বন্দরের ফটকগুলোতে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকলেও চলাচল কম। দুপুরের দিকে মূলত বন্দর থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়। তখন পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সাইনবোর্ডে চলাচলরত গাড়ি আটকে দেন। সেই সঙ্গে গাড়িগুলো থেকে যাত্রী ও চালকদের নামিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন তারা। এরপর মহাসড়কের দুই পাশে গাড়িগুলোকে এলোমেলো করে রেখে রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের এ ধর্মঘট এখনও চলছে।

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহন তেমন চলছে না। মহাসড়কের কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু বাস নেই। সকাল সোয়া আটটা থেকে পৌনে নয়টা পর্যন্ত মহাসড়কের মির্জাপুর, ইচাইল, কর্ণী, শুভুল্যা ও কদিম ধল্যা এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলগামী দু-একটি বাস, কিছুসংখ্যক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলেছে। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। কয়েকটি লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার চলেছে।

ধর্মঘটে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা। বুধবার সকালে বন্দর চত্বর থেকে আমদানি পণ্য খালাস ও ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, বন্দর চত্বর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে পড়লে জাহাজ থেকে নামানো কনটেইনার রাখার জায়গাও কমে আসবে। ধীরে ধীরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোও বন্ধ হয়ে পড়বে। বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন