৩১ মার্চ ২০২৬

বারী সিদ্দিকীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাধারা বিনোদন »

প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার, বংশীবাদক ও সঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০১৭ সালের এই দিনে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার এক সংগীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি তার।

মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ওপরও পড়াশোনা করেন বারী সিদ্দিকী।

লোকগান ও আধ্যাত্মিক ধারার গানের জন্য পরিচিত এই শিল্পী ১৯৯০ এর দশকে কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে সারা দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছান।

১৯৯৩ সালে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে তার বাসায় এক অনুষ্ঠানে বাঁশি শোনাতে যান বারী সিদ্দিকী। সেই অনুষ্ঠানে বারীর বাঁশির চেয়ে তার কণ্ঠে গাওয়া রশিদ উদ্দিন ও উকিল মুন্সির গানই বেশি পছন্দ হয় হ‌ুমায়ূনের। পরে লেখকের আগ্রহেই তার কণ্ঠে ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়,’ ‘পুবালি বাতাসে’ গানগুলো রেকর্ড করা হয়।

দীর্ঘদিন সংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সবার কাছে বারী সিদ্দিকী শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে। ওই বছর হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই সিনেমাতে তিনি ছয়টি গান গেয়ে রাতারাতি আলোচনায় আসেন।

জীবদ্দশায় এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি।’ বাংলা ফোক গানের কালজয়ী শিল্পী তিনি। লোকগানকে কীভাবে আত্মার সাথে বাঁধতে হয় সেই উপলব্ধির সূত্রই তিনি গানে গানে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যকে গ্রহণ করে তা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে একান্ত নিজস্বতায় গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি গায়ক। বিভিন্ন বাউলশিল্পীদের গানকে এ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রতি ছিল তার আজন্মকালের শ্রদ্ধা। তিনি তার গানে যে অলংকার ব্যবহার করেছেন তা আমাদের লোকসঙ্গীতে এর আগে কেউ করেনি।

হৃদয়ের গভীরে নাড়া দেয়ার মতো অসংখ্য লোকগান ও মরমী ধারার গানে জাদুকরী কণ্ঠশৈলীতে তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের মন জয় করেছেন। তার গাওয়া গান নিয়ে ডজনখানেক অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। তার একক অ্যালবামগুলো হচ্ছে-‘দুঃখ রইলো মনে’, ‘সরলা’, ‘ভাবের দেশে চলো’, ‘সাদা রুমাল’, ‘মাটির মালিকানা’, ‘মাটির দেহ’, ‘মনে বড় জ্বালা’, ‘প্রেমের উৎসব’, ‘ভালোবাসার বসত বাড়ি’, ‘নিলুয়া বাতাস’, ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’ এবং ‘দুঃখ দিলে দুঃখ পাবি’। ‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনই ঠিক রবে, সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে’- নিজের গাওয়া এ গানের মতোই অগণিত ভক্ত-অনুরাগীকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছিলেন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক-লোক সঙ্গীতশিল্পী ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী।

২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর দিনগত রাত সোয়া দুটার পর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ৬৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/ইরা

আরও পড়ুন