২১ মার্চ ২০২৬

প্রযুক্তির সহায়তায় প্রশ্নপত্র ফাঁস : গ্রেপ্তার ৭

বাংলাধারা ডেস্ক »

বিসিএস ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রক্সি সহযোগিতা চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গত শুক্র ও শনিবার(৩০নভেম্বর) রাজধানীর কাফরুল ও লালবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন- মাহমুদুল হাসান আজাদ, নাহিদ, রাসেল আলী, রুহুল আমীন, খালেকুর রহমান টিটু, আহমেদ জুবায়ের সাইমন ও ইব্রাহিম। তাদের কাছ থেকে ১২টি ইলেক্টনিক্স ডিভাইস, ১৬টি মাইক্রো হেডফোন, ১৫টি মোবাইল, ২৫টি মোবাইল সিম, বিভিন্ন পরীক্ষার পশ্নপত্র সমাধানে ব্যবহৃত চারটি বই উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ ৩৬ তম বিসিএসের মাধ্যমে অডিটে (নন-ক্যাডার) চাকরি পেয়েছেন। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা হয়েছে। রোববার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্ন হলের বাইরে নিয়ে যায়। সেই প্রশ্ন এক্সপার্ট গ্রুপ দিয়ে সমাধান করে ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর নিকট সরবরাহ করে। এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া জনতা ব্যাংকের এ্যাসিস্টেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইও) পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হল থেকে সংগ্রহ করে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করে।

এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাসহ স্কুল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নের উত্তর সরবররাহ করতেন। চাকরির ধরণ বুঝে ৫-১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করতো চক্রের সদস্যরা। পরীক্ষার আগে চক্রটি জামানত হিসেবে পরীক্ষার্থীর মূল সার্টিফিকেট, মার্কসিট ও সনদপত্র নিজেদের কাছে জমা রাখে।

চুক্তি অনুযায়ী ভর্তি বা চাকরি পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশের সময় কানের ভিতরে একটি ক্ষুদ্র ডিভাইস দেয়া হয়। যেটা তল্লাশি বা স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ে না। এই ডিভাইসের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর শরীরে বিশেষ রাবারের ব্যান্ড দিয়ে সিমযুক্ত একটি যন্ত্র লাগিয়ে দেয়া হয়।

পরীক্ষা শুরুর পর মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। এরপর চক্রের সদস্যরা প্রশ্নে উত্তরপত্র সমাধান করে। পরে কানে থাকা ডিভাইসের মাধ্যমে হলে বসে থাকা পরীক্ষার্থীকে সকল উত্তর বলে দেয়। মাসুদুর রহমান বলেন, এই চক্রের একটা গ্রুপকে আটক করা হয়েছে। সাতজনতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন