চবি প্রতিনিধি »
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের অদূরে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুমন নাসির ও ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফিকে মারধরের প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ সিএফসি।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গত চারদিন দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষ সিএফসি ও ভিএক্স। তারই রেশ ধরে সিএফসির দুইজনকে ভিএক্সের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মারধর ও কুপিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিএফসি।
রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর হাটহাজারী উপজেলার এগারো মাইল এলাকায় তাদের মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ভিএক্স ও সিএফসির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে থাকা পুলিশের পাঁচটি ও প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করে একদল দুর্বৃত্ত। এসময় এই জায়গায় অবস্থিত পুলিশ বক্স ও ওয়াচটাওয়ারে হামলা চালায় তারা।
এসময় রহস্যজনকভাবে লোডশেডিং দেখা দেয়।তবে ভাঙচুরের পরপরই ইলেক্ট্রিসিটি ফিরে আসে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ।
এদিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই নেতার উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার না করলে প্রতিবাদে সোমবার (২ ডিসেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করবে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী গ্রুপ সিএফসি।

রেজাউল হক রুবেল বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী তাপসের খুনিদের মদদদাতা এবং সুমন নাছির ও আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফির উপর হামলা কারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর সিরাজুদ্দৌলার অপসারণও দাবি করেন ছাত্রলীগের এ নেতা।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতের ক্যাম্পাস গামী শাটল ক্যাম্পাসে আসনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে ষোলোশহর স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তার কারণে ট্রেন ছেড়ে যায়নি। আগামীকাল চলাচল করবে কিনা এখনো বলা যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি এরকম থাকলে আগামীকালও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
ভিএক্স পক্ষের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, এই ঘটনার দায়ভার ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হককেই নিতে হবে। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ। এতে জুনিয়রদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, মারামারির এসব ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অনেক ধৈর্য ধরেছে। ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, এর আগে গত ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। পুনরায় সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকায় ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও পাথর উদ্ধার করলেও কাউকে আটক করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তাপস সরকার খুন হন। আহত হন আরও পাঁচ ছাত্র। এ ঘটনায় ১৭ ডিসেম্বর তাপসের সহপাঠী হাফিজুল ইসলাম হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে আদালতে মামলাটি বিচারাধীন আছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












