চবি প্রতিনিধি »
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধে শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়নি শহরগামী শিক্ষকবাস। যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে ১০ টিরও বেশি বিভাগের পরীক্ষা ও বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস।
তবে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিলে শিক্ষকবাস শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
গতকাল রবিবার ( ১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি পক্ষের দুই নেতাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় ‘সিএফসি’। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গত পাঁচদিন দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষ সিএফসি ও ভিএক্স। তারই রেশ ধরে সিএফসির দুইজনকে ভিএক্সের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মারধর ও কুপিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিএফসি।
মারধরের শিকার দুইজন হচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুমন নাছির ও ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফি।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে অবরোধ শিথিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে এবং শিক্ষা-উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাইয়ের নির্দেশে আমরা ধর্মঘট শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়নি। তিনদিনের মধ্যে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই সময়ে আমরা কোন অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করবো না।
তবে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং শাস্তির আওতায় না আনা হলে আমাদের অবরোধ চলবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহর অপসারণ ও চাকরিচ্যুত, ছাত্রলীগের ভিএক্সের পক্ষের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয়কে গ্রেপ্তারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন সিএফসি পক্ষ।
অবরোধের কারণে বিশ্বিবদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, ইংলিশ চতুর্থ বর্ষ, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট তৃতীয় বর্ষ, সমাজতত্ত্ব দ্বিতীয় বর্ষ, ইসলামিক স্ট্যাডিজ মাস্টার্স, ইতিহাস বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষ, বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ দ্বিতীয় বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রথম বর্ষ, আরবি, ইসলামের ইতিহাস এবং বন ও পরিবেশবিদ্যা ইন্সটিটিউটের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়াও ধর্মঘটের কারনে শাটল ট্রেনে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম দেখা গেছে। সকাল চারটি ট্রেন ক্যাম্পাসে আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র একটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক ড. রাশেদ উন নবী বলেন, সকাল ৮টার দিকে বাস চালকদের কয়েকজনকে হুমকি দেয়াতে পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে সকাল ১০ টা পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এছাড়া শাটল ট্রেন চলাচলের বিষয়টি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ষোলশহর স্টেশন মাস্টার তন্ময় চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান দুপুরে প্রশাসনিক ভবনে এক ব্রিফে লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবদমান শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা ও গবেষণার চলমান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টকারীদের আইনের আওতায় এনে যেকোন ধরনের শাস্তি প্রদানে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে চলমান ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের বিবদমান দুইটি পক্ষ ‘ভিএক্স’ ও ‘সিএফসি’র মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে কয়েকবার। এতে আহতও হয়েছিলেন উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী।
পরবর্তী সময় সংঘর্ষ এড়াতে (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও পাথর উদ্ধার করলেও কাউকে আটক করা হয়নি। পরে গতকাল ক্যাম্পাসের অদূরে এগারো মাইল এলাকায় সিএফসির দুইজনকে মারধর করলে অবরোধের ডাক দেয় তারা।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












