বাংলাধারা প্রতিবেদন »
বায়ান্নর ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) শিক্ষা উপমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে
এদিকে ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আবেগঘন স্ট্যাটাসও দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাঁর ফেসবুকে। নিচে বাংলাধারা পাঠকদের সুবির্ধার্তে স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো…
শুরুতে শোক প্রকাশ শিক্ষা উপমন্ত্রী লিখেছেন, “গভীর শোকাহত…
৫২’র ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু আজ ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন…ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”
“মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক- সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।”

ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চুর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বায়ান্নোর উত্তাল একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় মেয়েদের যে মিছিল পুলিশের ব্যারিকেডে ভেঙেছিল, সেই মিছিলের মুখ রওশন আরা বাচ্চু।”
“১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সংগ্রামী। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে যে সমস্ত ছাত্র নেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন তিনি তাদের অন্যতম।”
মন্ত্রী লিখেছেন- “জন্ম:
তিনি ১৯৩২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর সিলেটের কুলাউড়া থানার উছলাপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।তার বাবার নাম এ এম আরেফ আলী এবং মায়ের নাম মনিরুন্নেসা খাতুন।”
তনি ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চুর ভূমিকা তুলে ধরেন এভাবে-
“ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা:
১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় রওশন আরা বাচ্চু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ২১ ফেব্রুয়ারিতে যে সকল ছাত্র নেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।তিনি জনমত সমর্থনের জন্যও ব্যাপক চেষ্টা করেন। তার অনুপ্রেরনায় ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয় এর ছাত্রীদের সংগঠিত করে আমতলার সমাবেশ স্থলে নিয়ে আসেন। এখান থেকেই ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। তারা ব্যারিকেড টপকিয়ে মিছিল নিয়ে এগুনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশের বাধার মুখে ব্যরিকেড টপকানো বেশ কঠিন ছিলো। রওশন আরা বাচ্চু তার দলের সবাইকে নিয়ে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ভেঙ্গে ফেলেন। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে দেয়। এতে নিহত ও আহত হন অনেকে। রওশন আরা বাচ্চুও ছিলেন এমন আহতদের একজন।”
এ ভাষাসৈনিকের জীবনী নিয়ে লিখেছেন-
“শিক্ষা ও চাকরি জীবন:
রওশন আরা বাচ্চু ১৯৪৭ সালে পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন।এরপর বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে দর্শনে অনার্স করেন।এরপর ১৯৬৫ সালে বি এড এবং ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এম এ করেন। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্স এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্ট এর সাথে ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।”
নওফেল লিখেছেন, “তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন যেমনঃ ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটন অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল (খন্ডকালীন), নজরুল একাডেমি, কাকলি হাই স্কুল এবং পরে আলেমা একাডেমিতে। সবশেষে ২০০০ সালে বিএড কলেজে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।”
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












