১৪ মার্চ ২০২৬

ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি: শাহ আমানত সেতুতে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট

কাউছার আলম »  

শাহ আমানত সেতু (তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু) পারাপারে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে ইলেট্রনিক টোল আদায় প্রক্রিয়া উদ্বোধন করা হয় গত ২৭ অক্টোবর। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগ্রাবাদ সড়ক ভবনে প্রকল্পটির উদ্বোধন করলেও সড়ক ও জনপথ(সওজ) বিভাগ ও টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তেমন প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে টোল আদায়ে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টি সম্পর্কে গাড়ির মালিক ও চালকরা অবগত নন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি সুবিধা পেতে কেউ কোন গাড়ি নিবন্ধন করেনি। কিন্তু পহেলা জানুয়ারী থেকে শাহ আমানত সেতু পারাপারে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে টোল আদায়ের জন্য উভয় দিকে একটি করে লেন সংরক্ষিত করে রাখা হয়। এ কারণে প্রতিদিন উভয় দিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।

যানজটের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ পথে চলাচল করা পর্যটন জেলা কক্সবাজার, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৮ উপজেলার বাসিন্দাদের। যানজটের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের কৌশল হিসেবে মনে করছেন যানবাহন মালিক-চালক ও যাত্রীরা।

সওজ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি ইউডিসি- ভ্যান জেভি শাহ আমানত সেতুর ইজারাদার হিসেবে টোল অপারেশন করেন। তাদের মাধ্যমে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেতু পারাপারের টোল পরিশোধে ফাস্ট ট্র্যাক সুবিধা পেতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট একাউন্টের মাধ্যমে বিআরটিএ প্রদত্ত সচল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগ ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন করানো গাড়ির গ্লাসে সাঁটানো আরএফআইডি ট্যাগের সঙ্গে টোল গেটের এনটেনার সংকেতের মাধ্যমে টোল আদায় হবে। এতে সংরক্ষিত বিশেষ লেন দিয়ে যানবাহন না থামিয়ে সেতু পারাপার হওয়া যাবে। সংক্রিয়ভাবে টোলের টাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রকেট একাউন্ট থেকে কেটে রাখা হবে এবং দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে টোল প্রদানকারীর মুঠোফোনে টোল প্রদানের বার্তা চলে যাবে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাতায়াতে ব্যবহার হয় কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত এই শাহ আমানত সেতু। প্রতিদিন চলাচল করে ছোট-বড় ৫০ হাজারের বেশি গাড়ি।

গতকাল সোমবার দুপুরে সেতুর টোল প্লাজায় গিয়ে দেখা যায়, উভয় পাশের ছয় লেনের মধ্যে চারটি দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ফাস্ট ট্র্যাকের দুটি লেন খালি। এ সময় বাকি চার লেনের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে আছে ।

সওজ জানায়, ফাস্ট ট্র্যাকের সংরক্ষিত লেন দিয়ে শুধু গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেটধারী এবং নিবন্ধিত গাড়িগুলো পার হতে পারবে। এসব গাড়ির গ্লাসে লাগানো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগের সঙ্গে টোল গেটের অ্যানটেনার সংকেতের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় হবে। এতে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে টোল দেওয়া ব্যক্তির মুঠোফোনে আদায়ের খুদে বার্তা চলে যাবে।

সূত্রে আরও জানা যায়, মেঘনা-গোমতি সেতুতে ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি চালু আছে। শাহ আমানত সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালক ও মালিকেরা পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন অবগত না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউডিসি-ভ্যান জেভির অপারেশন ডিরেক্টর অপূর্ব সাহা জানান,আমরা আরও দুইটা বুথ (লেন) বাড়ানোর চিন্তা করছি। ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি এখনো চালকের কাছে নতুন, তাই ঝামেলা মনে হচ্ছে। সব চালক নিবন্ধনের আওতায় আসলে আশা করি সহসাই ভোগান্তি কমে আসবে।

জানা যায়, শাহ আমানত সেতুতে (তৃতীয় কর্ণফুলী) টোল আদায়ে উভয় দিকে তিনটি করে মোট ছয়টি লেন আছে। ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে টোল পরিশোধে রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়ি না থাকার পরও একটি করে দুইটি লেন সংরক্ষিত রাখার কারণে ১ জানুয়ারি থেকেই যানজটের বিপত্তি তৈরি করছে। ১লা জানুয়ারি হতে আজ ৬ জানুয়ারি ৬দিনে মাত্র ১৭ টি গাড়ি সেতু পারাপারে সেবাটি গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে দুটি লেন ফাস্ট ট্র্যাকের জন্য সংরক্ষিত করার কারণে অন্য চার লেনে টোল দিতে ধীরগতির কারনে তিন দিনে যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে লাখো যাত্রীকে। গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত সেবাটি পেতে ৫০টি যানবাহন রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ