১৪ মার্চ ২০২৬

আবারো বিপিএম পেলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান, দৃষ্টান্তমূলক সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন আবারো বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক `বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বিপিএম) পেয়েছেন।

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’-এ প্রতিপাদ্যে ৫-১০ জানুয়ারি জাতীয় পুলিশ সাপ্তাহ ২০২০ এর প্রথম দিনে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হয়ে অন্যদের সাথে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ ১১৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক ও ব্যাজ পরিয়ে দেন। এর আগেও তিনি একই পদকসহ আরো একাধিক পদক পেয়েছিলেন। ফলে এবারের কৃতিত্বপূর্ণ পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম তাঁর নামের শেষে ‘বার’ শব্দটি লিখবেন। ‘বার’ শব্দটি একাধিকবার বিপিএম পদক পাওয়া বুঝাবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন।

সূত্র জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মাঝে এবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনই একমাত্র এসপি হিসেবে রাষ্ট্রীয় এ পদকের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। বাকী ৬৩ জেলার কোন এসপি এবারে বিপিএম কিংবা পিপিএম পদকের জন্য মনোনীত হননি। এ হিসেবে তিনিই ৬৪ জেলার এসপিদের একমাত্র প্রতিনিধি হয়েছেন।

অপরাধ দমনে পুলিশিং অপারেশনে ব্যাপক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিপিএম সেবা ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ জাতীয় পুরস্কার পেলেন।

পদক প্রাপ্তরা রাষ্ট্রীয় অর্থ সুবিধা এবং প্রাপ্ত উপাধি নিজ নিজ নামের শেষে ব্যবহার করতে পারবেন। পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং-এ এই পদক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম কক্সবাজারে যোগদানের মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে ২টি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক ও ৪টি আইজিপি পদক প্রাপ্তির সৌভাগ্য অর্জন করলেন।

জানা যায়, অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারে ১৪ পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও ২০ জনকে পিপিএম পদক দেয়া হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ পড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার ৬ জানুয়ারি বঙ্গভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও জননিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের সম্মানে রাষ্ট্রপতির আয়োজিত এক নৈশভোজ শেষে এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) রাষ্ট্রপতির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবিএম মাসুদ হোসেন বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ’র দক্ষিণ ওলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মরহুম মাস্টার আবদুল কাদের হাওলাদার ও অজুফা খাতুন দম্পতির ছেলে। তারা ৮ ভাই-বোন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে ২৪ তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশের কৃতি সদস্য হন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যোগ দেয়ার পর ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার, এএসপি (মানিকগঞ্জ-সদর সার্কেল), অতিরিক্ত এসপি-মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা জেলায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্বপালনকালীন সময়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান। ২০১৮ সালের ১১মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ডিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার এন্ড ফোর্স) হিসেবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে ডিএমপিতে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসাবে নিয়োগ পান এবং ১৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ’র চর গোপালপুর ইউনিয়নের মিথুয়া গ্রামের প্রখ্যাত আইনজীবী, বরিশাল জেলা বারের একাধিকবার নির্বাচিত সভাপতি ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন কাবুলের মেয়ে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা জেনিফার মুনকে ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বিয়ে করেন এসপি মাসুদ। দাম্পত্য জীবনে ঈসা ও মুসা নামে দু’জমজ সন্তান রয়েছে তার।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ