১৪ মার্চ ২০২৬

কর্ণফুলীতে দেয়াল ঘেঁষে সেতু নির্মাণে মসজিদে ফাটল

জে. জাহেদ, কর্ণফুলী »

কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সৈন্যেরটেক এলাকায় একটি বড় মসজিদের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। জানা যায়, মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসী সতর্ক করা সত্বেও দেয়াল ঘেঁষে সেতু নির্মাণে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে মসজিদ ভবনের এমন ক্ষতি হয়েছে। এর একদিন আগেও সংস্কারের দাবিতে মুসল্লিরা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদের মুসল্লিরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটির নাম ‘সৈন্যেরটেক জামে মসজিদ’। মসজিদটি চরপাথরঘাটা এলাকার সৈন্যেরেটেক খালের বিপরীতে অবস্থিত। একতলা ভবনটি দুটি ভাগে বিভক্ত। নতুন মাটি ভরিয়ে মসজিদ ভবন অনেক বড় করা হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে।

সরেজমিনে মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই সৈন্যেরটেক পুলের উপর নতুন সেতু নির্মাণের কাজ করছে। এ কারণে মসজিদ ভবনের দেয়াল ঘেঁষে প্রায় ৩০ ফুট মাটি খোঁড়া হয়েছে এবং বালি তোলার মোটর বসানো হয়েছে। এতে ভূ-অভ্যন্তরের মাটি সরে যাওয়ার কারণে তৎসংলগ্ন মসজিদের দক্ষিণ দিকের বড় দেয়ালটির মাঁঝখানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মসজিদের ভেতরের মেঝে এবং টাইলসে ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন মুর্হুতেই দেয়াল ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থাতেই ভেতরেই মসজিদে আজ জুমার নামাজ পড়ছিলেন মুসল্লিরা।

ওই এলাকার মুসল্লি নেজাম উদ্দিন চৌধুরী, মো. শাহাজান, ওমর ফারুক বিজয় ও মো. ওয়াজেদ উদ্দিন আজাদ বলেন, মসজিদের পশ্চিম দেয়াল ঘেঁষে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকদিন আগে হঠাৎ মসজিদ ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এদিকে সেতু নির্মাণে কাজ করতে আসা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ও দায়িত্বরত লোকদের এ বিষয়টি অবগত করা হলেও তাঁরা বিষয়টির কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে সব মুসল্লিরা গিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ একদিন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আহমেদ জানান, আমাকে জানানো হয়েছে মসজিদের পাশে একটা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা সেতুর পিলার বসানোর কাজে মাটি তোলায় মসজিদের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ফলে মসজিদ রক্ষায় তিনি এই সেতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন। কেন না মসজিদ বড় পবিত্র স্থান।

মসজিদের সহকারি পেশ ঈমাম হাফেজ আবু তাহের বলেন, আমরা খুব আতঙ্কে আছি। যে কোনো মুহূর্তে মসজিদের দেয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেতু নির্মাণের কাজ শুরুর প্রথমেই ঠিকাদারের লোকজন প্রকৌশলীদের নিয়ে সেতু তৈরির স্থান পরিদর্শন করেছিলেন। তখন এলাকার লোকজন মসজিদের ক্ষতি হতে পারে বলে আগাম তথ্য জানালেও ঠিকাদারের লোকজন সে সময় আমলে নেননি বিষয়টি। এখন মসজিদ ভবনের মূল কাঠামোর কোন ক্ষতি হলে তার দায় কে নেবে সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সেতু নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র প্রজেক্ট ম্যানেজার পেয়ার হোসেন বুলবুল বলেন, মসজিদের দেয়ালটি একদম সেতুর সাথে লাগানো। সেতুর কাজ করতে গিয়ে দেয়ালে ফাটল ধরেছে সেটা সত্য। আমরা কেউই মসজিদের ক্ষতি চাই না। সেতুর কাজ শেষে আমরা মসজিদের সভাপতি ও মুসল্লিদের সাথে বসে সুন্দর ও যৌক্তিক সমাধান করব।

প্রসঙ্গত, এ প্রকল্পে উপজেলার মইজ্জ্যারটেক (বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু) চত্বর থেকে পুরাতন ব্রিজঘাট ফেরিঘাট সড়ক-বিএফডিসি সড়ক-আরবান আলী সড়ক পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে প্রশস্ত করা হচ্ছে এবং এ সড়কে থাকা দুটি পাকিস্থান আমলের পুরাতন সেতু ভেঙে নতুন ভাবে দুটি পাকা সেতু নির্মাণ করার প্রস্তুতি কাজ চলছে।

দুই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৩২ মিটার ও ৩৬ মিটার, প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার । মইজ্জ্যারটেক থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের প্রশস্ত হবে বর্তমানে থাকা ১৮ ফুট হতে ২৪ ফুটে উন্নতিকরণ। বাকি দুই কিলোমিটার সড়ক হবে ১২ফুট হতে ১৮ ফুটে বর্ধিত করার চলছে। এ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

আগামী ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কাজ করবেন তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান-রানা বির্ল্ডাস প্রাইভেট লিঃ, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিঃ ও সালেহ আহমেদ জে.বি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ