১৪ মার্চ ২০২৬

সব প্রতিষ্ঠানকে প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে হবে -তথ্যমন্ত্রী

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, আমি অবাক হয়ে যায়, দেড় থেকে দুই বছর আগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো একটি প্রতিষ্ঠান রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে ৩০০ ফুট পাহাড় কেটে ফেলছে।দেশের অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির প্রতি খেয়াল করে না। বিষয়টি আমাকে খুব পীড়া দিয়েছে। সরকারী, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হতে হবে।।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট অ্যালামনাইয় অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশর প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১ শ লোক বসবাস করে,তবুও বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। এটা বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কাছে একটি বিস্ময় ও কেস স্টাডি। এর কারন দেশ ছোট হলেও উর্বর। ১১ বছর আগে দেশে বনাঞ্চলের পরিমান ছিল ১৯ শতাংশের নিচে। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশের বেশিতে। শহরে মানুষ বেড়েছে, দালান বেড়েছে। এরপরও বৃক্ষ বেড়েছে। এর কারন মানুষ সচেতন হচ্ছে। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট বিশ্ববিদ্যালয় জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতকের নামে একটি করে গাছ লাগানোর প্রস্তাব করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অন্যরকম। এটা সবুজ, শ্যামল, ছোট ছোট পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, স্বকীয়তা বজায় রেখে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। আমরা আমাদের সিনিয়র শিক্ষক ও যারা এসব বিষয় বুঝেন, তাদের নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছি, তা শীঘ্রই সাবমিট করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে সুবজ সমারোহকে অক্ষুন্ন রেখে। আমরা চট্টগ্রামের বড় বড় স্থপতিদের সাথে বসেছি। প্রয়োজনে জিওসিরও সহায়তা নিব।

সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট অ্যালামনাইয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহাম্মদ বেলাল। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষা মিশনে ১ নম্বর দেশ। বিভিন্ন দুর্যোগে সবার আগে ছুটে আসে সেনাবাহিনী। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এই বাহিনী অনন্য অবদান রেখে চলেছে। সেনাবাহিনী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতেও সম্পৃক্ত। এ সময় তিনি ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে নিজেদের সম্পৃক্ত করার ঘোষনা দেন। একই সাথে নিজেদের নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার গাছ প্রদানের ঘোষনা দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ মহিউদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির দিন হলেও সকাল থেকেই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য দূরদূরান্ত থেকে আগত ইন্সিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ