বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচন কাল। ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) নির্বাচনি সরঞ্জাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কেন্দ্রে যাচ্ছেন।
আগামীকাল সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এই আসনে এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর দুইজন করে সদস্য কারিগরী সহযোগিতার জন্য থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনে ৫৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কেন্দ্রগুলোতে ১৯ ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যের সমন্বয়ে ১৪টি মোবাইল ফোর্স, ছয়টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ছয়টি টহল দল এবং পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করছি। সংঘাতের যদিও কোনো আশঙ্কা নেই, তারপরও সংঘাত হলে মোকাবিলার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, নগরীতে প্রায় ১৭০০ পুলিশ সদস্য নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। গত (শনিবার) রাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। রোববার দুপুরের পর থেকে ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, ‘একদম ফ্রেশ এবং ফেয়ার ইলেকশন হবে। গ্রামে বিভিন্ন কেন্দ্র আছে। সবকেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার একসঙ্গে কাজ করবে। সুন্দর নিবাচন হবে।’
তিনি আরো বলেন, ১২৫০ জন পুলিশ ও ৮৪০ জন আনসার সদস্য বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভাগ করে মোতায়েন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে ইভিএমে প্রথম ভোট হচ্ছে। ভোটারদের মধ্য থেকে বিভ্রান্তি দূর করতে ইতোমধ্যে মহড়া ভোট হয়েছে।
একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কর্ণফুলী নদীপাড়ের চট্টগ্রাম-৮ আসন। বোয়ালখালী পৌরসভার সঙ্গে থাকা ৯টি ইউনিয়ন হচ্ছে- কধুরখীল, পশ্চিম গোমদন্ডী, পূর্ব গোমদন্ডী, শাকপুরা, সারোয়াতলী, পোপাদিয়া, চরণদ্বীপ, আমুচিয়া এবং আহল্লা করলডেঙ্গা। চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানার অধীন ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড পড়েছে এই আসনে।
কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুর মাধ্যমে নগর ও জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৯২২ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪ জন। বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার। বাকি ভোটার চট্টগ্রাম নগরীতে।
নগরী ও উপজেলায় ১৭০টি কেন্দ্রের ১১৯৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ইভিএম পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সেনা সদস্যরা থাকবেন। এছাড়া প্রিসাইডিং, পোলিং মিলিয়ে ৩ হাজার ৭৬৭ জন নির্বাচন কর্মকর্তা এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়ামে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তারা সরঞ্জাম নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেছেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৪ জন এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ৫ জন পুলিশের সঙ্গে থাকছে ১১ জন আনসার সদস্য। এছাড়া ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৬ প্লাটুন র্যাব, ১৪টি মোবাইল ফোর্স ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিজিবির সঙ্গে মোবাইল টিমে থাকবেন।
উল্লেখ্য, তিনবারের সংসদ সদস্য জাসদ নেতা মঈনউদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে আসটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। গত বছরের ৭ নভেম্বর তিনি ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












