২১ মার্চ ২০২৬

চবিতে ছাত্রলীগের পৃথক ঘটনায় আহত ৭, অবরোধের ডাক

চবি প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনিয়ম করায় বাধা দিলে ছাত্রলীগের সিএফসি পক্ষের ছাত্রলীগকর্মী শামীম আজাদকে মারধরের ঘটনায় সিএফসি কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয় পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে বিজয়ের তিন কর্মী আহত হয়।

এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের গ্রেফতার ও সাংগঠনিক পদ প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় বিজয় পক্ষ।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্ত্বর এলাকায় দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলার শিকার হয় ছাত্রলীগের অপর পক্ষ সিক্সটি নাইনের তিন কর্মী। এ ঘটনায় সিক্সটি নাইনের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও শাটল ট্রেন আটকে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আগামীকাল ১২টার মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাসে দিলে তারা গেইট খুলে দেয় এবং প্রায় এক ঘন্টা পরে শাটল ট্রেন ছাড়ে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩ টার নাগাদ ঘটনা দুইটি ঘটে। উভয় ঘটনায় ছাত্রলীগের সাত কর্মী আহত হয়। আহতের একজন গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে হাটহাজারী থানা পুলিশের সহায়তায় সোহরাওয়ার্দী ও শাহ আমানত হলে সাতটা ৪৫ মিনিট থেকে তল্লাশি শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনিয়ম করে ছাত্রলীগের সিএফসি পক্ষের কর্মী শামীম আজাদ। বাধা দিলে সে কথা কাটাকাটি করে এবং এক পর্যায়ে খেলোয়াড় ও ছাত্রলীগের ‘বিজয়’ পক্ষের কর্মী মিথুনকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে।

এ সময় উপস্থিত থাকা অন্য খেলোয়াড়রা তাকে প্রতিহত করে এবং মারধর করে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সিএফসির কর্মীরা শাহ আমানত হল থেকে বের হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলে এসে বিজয়ের কর্মীদের উপর হামলা করে। এ সময় বিজয়ের তিন কর্মী আহত হয়।

আহতের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক জীবন হাতে ও পায়ের রগে আঘাত গুরুতর হওয়ায় চমেকে পাঠানো হয়েছে। অপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন সামনে দোকানে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের পক্ষ সিক্সটি নাইনের কর্মীদের ওপর হামলা করে মুখোশধারী দুর্বত্তরা। এতে সিক্সটি নাইনের তিন কর্মী আহত হয়। আহতদের সবাইকে চবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। সিক্সটি নাইনের দাবি এ ঘটনা ছাত্রলীগের অপর পক্ষ রেড সিগনাল (আর এস) করেছে।

কিন্তু রেড সিগনালের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক রকিবুল হাসান দিনার অস্বীকার করে বলেন, উক্ত ঘটনার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। আমি পরে জানতে পেরেছি ঘটনাটি। আর আমার সংশ্লিষ্টতা থাকার কোন প্রশ্নই নেই।

আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী মাহফুজুল হুদা লোটাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল, ইতিহাস বিভাগের জাহিদ শাকিল, ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম আজাদ, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক জীবন, আইন বিভাগের একই সেশনের অপূর্ব এবং গণিত বিভাগের রাওফান।লোটাস, ইব্রাহীম ও শাকিল নগর মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অনুসারী শাখা ছাত্রলীগের উপ-গ্রুপ সিক্সটি নাইনের কর্মী।

স্টেশন এলাকায় হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, অকারণে কারও উপর আঘাত করা ন্যায় সংগত নয়। বিগত দিন গুলোতে ও বিভিন্ন ঘটনায় বহিরাগত কতৃক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আক্রমণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের বিচারহীনতার কারণে এসব ঘটনা বার বার ঘটছে।

সোহরাওয়ার্দী হলে হামলার ঘটনায় বিজয় পক্ষের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস বলেন, প্রশাসনের সামনে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে জামায়াতি স্টাইলে রগ কাটায় জড়িতদের রাত নয়টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় আজ রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় লাগাতার অবরোধ চলবে। একই সাথে রেজাউল হক রুবেলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কতৃক বগিভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রশাসানকে আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি যারা আগে মেরেছে আর যারা পরে মেরেছে সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এদের যদি এভাবে ছাড় দেওয়া হয় তাহলে সহিংসতা আরও বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, আমরা এখনও পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন