কাউছার আলম,পটিয়া »
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সুতিকাগার শিক্ষা-সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে পটিয়া একটি অগ্রসর জনপদে পরিণত হলেও পটিয়ার আদালত ভবনটি পয়ত্রিশ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ থাকার পরেও এদিকে কারোরই সুদৃষ্টি নেই। যদিও পৌরসদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
বর্তমানে আদালত ভবনটি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত নামে পরিচিত। নানা সমস্যায় জর্জরিত টিনশেড ছাউনি, বাঁশের বেড়ার ছাদ ও বেড়া আর ঘেরা দিয়ে নির্মিত এই আদালত ভবন পয়ত্রিশ বছর ধরেই জরার্জীণ। এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়ে গিয়ে দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সংস্কার কিংবা সমাধানের নেই কোনও উদ্যোগ।
জানা যায়, ১৮৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার আদালত ভবনটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘ একশত একচল্লিশ বছর ব্যবহারের পর ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন ধরনের সংস্কার কিংবা উন্নয়নের ব্যবস্থা আজ অবধি নেওয়া হয়নি। তা নিয়ে বিচার প্রার্থী ও বিচারকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে।
সরেজমিনে গুরে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ও লক্কর ঝক্কর টিনের ছাউনিতে রয়েছে হাজারো ছিদ্র। ঘেরা বেড়া, কিছু অংশ আর আধা পাকা দেয়াল এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে মোড়ানো ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতে হলেই পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৬টি কোর্টের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে । এছাড়াও ৬ জন বিচারকের মধ্যে রয়েছে ৪ জন, যার ফলে বিচার প্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এদিকে পটিয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও পটিয়া প্রথম, দ্বিতীয় ও অতিরিক্ত আদালতসহ বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী আদালতের দীর্ঘদিন ধরেই বিচারকের এজলাস, চেম্বার, বাসস্থান, বাউন্ডারি দেয়ালসহ অরক্ষিত ভাবে রয়েছে ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে আশপাশের উপজেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
আরো জানা যায়, মন্ত্রনালয় হতে ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত করনে এই বরাদ্দ বাতিল করা হয়। প্রশাসনিক জটিলতা ও বিচার বিভাগের কিছু ত্রুটির কারণে বরাদ্দ বাতিল হয় বলে আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে জানান। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী মির্জা হাফিজ উদ্দীন ৬ কোটি টাকায় আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও যোগাযোগমন্ত্রী কর্ণেল অলি (অব.) আহমদ বীর বিক্রমের রোষাণলে পড়ে বরাদ্দটি বাতিল করে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশ গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য কেটে নিয়ে যায় এবং তা বাস্তবায়ন করেন।
সূত্রটি আরো জানান, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিমকে পটিয়া আইনজীবী সমিতির পক্ষ হতে সংবর্ধনা সভায় বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ৬তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও অদৃশ্য কারণে অর্থমন্ত্রণালয়ে ফাইলটি লাল ফিতায় আটকে গেছে। তা আজ অবধি সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে পটিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক কুমার শীল বলেন, এ ভবনে দীর্ঘদিন ধরেই অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করছি। যে কোন সময়ে ভবনটি ধসে পড়ে গিয়ে প্রাণহাণির আশংকা রয়েছে। এমনকি ভবনের টিনশেড ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে গুরত্বপূর্ণ মামলার নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসস্থান, ভবনের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় সংশ্লিষ্টরা যথেষ্ট নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। বিচারপ্রার্থীদের বসার ব্যবস্থা ও বিচার কার্যালয় সংকুচিত হওয়ায় সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পুরনো এই আদালত ভবনের সবকিছুই নষ্ট হচ্ছে এমনকি গণশৌচাগার, চলাচলের রাস্তা, সুপেয় পানির টিউবওয়েলটি ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। তাই অবিলম্বে ভবন নির্মাণের জন্য আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












