২১ মার্চ ২০২৬

চবি ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অপর পক্ষের ঝাড়ু মিছিল

চবি প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছে অপর উপ-পক্ষ বিজয়ের কর্মীরা। গতকাল বিজয়ের তিন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার পর রাতে অবরোধের ডাক দেয় বিজয়। তাদের দাবি ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেলকে বহিস্কার ও শাস্তির আওতায় আনত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা বারোটার দিকে এফ রহমান হল ও আলাওল হল থেকে বিজয়ের কর্মীরা মিছিল শুরু করে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ের দিকে আসার পথে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ে। এসময় তারা রাস্তায় বসে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে দিতে দেখা যায়। ‘এক দফা এক দাবি রুবেল তুই যাবি’ বলে স্লোগান দেয়। এরপর পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি তাদের এ এফ রহমান হলের ভিতরে ঢুকিয়ে গেইট আটকে দেয়।

এসময় বিজয়ের কর্মী বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ২০০৬-০৭ সেশনের। সে এই পদের যোগ্য নয়। এ অযোগ্য ও অছাত্রকে আমরা আর সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা তার বহিষ্কার চাই এবং তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি।

গতকাল রুবেলের নির্দেশে শিবির স্টাইলে আমাদের তিন ছাত্রলীগ কর্মীর রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। রুবেলের শাস্তি না হলে আমরা অবরোধ চালিয়ে যাব।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কতৃক বগিভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এই ধরনের কর্মকান্ড ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রশাসানকে আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি যারা আগে মেরেছে আর যারা পরে মেরেছে সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এদের যদি এভাবে ছাড় দেওয়া হয় তাহলে সহিংসতা আরও বেড়ে যাবে।

বিজয় পক্ষের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস বলেন, প্রশাসনের সামনে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে জামায়াতি স্টাইলে রগ কাটায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার অবরোধ চলবে। একই সাথে রেজাউল হক রুবেলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। ছাত্রলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, আমরা কথা বলার পর তারা হলে ফিরে গেছে। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, গত রাতেও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়েছি। কাজেই, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা আমরা নিব।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি৷ কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল কেন্দ্রীয় খেলার সিএফসি গ্রুপের একজনকে মারধরের ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয় গ্রুপের তিনজনকে কুপিয়ে জখম করে সিএফসির কর্মীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনজনকে আহতের প্রতিবাদ ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে এ ঘটনার দায়ী করে লাগাতার অবরোধের ডাক দেয় বিজয় পক্ষ। নিরাপত্তার জন্য সন্ধার পর সোহরাওয়ার্দী ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

এ সময় সিএফসি গ্রুপের ১২জন ও বিজয় গ্রুপের ৮জনকে আটক করে পুলিশ।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন