কক্সবাজার প্রতিনিধি »
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. +তাজুল ইসলাম বলেছেন, মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুুচ্যুতির পর বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের প্রথম আশ্রয় দিয়েছেন উখিয়া-টেকনাফের জনগণ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে স্থানীয়রা আজ মানসিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি এনজিওদের এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের উখিয়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা মিয়ানমারের নাগরিক। সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ায় মানবিক কারণে আমরা সাময়িকভাবে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের অবশ্যই মায়ানমারে ফিরে যেতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। এখন রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কক্সবাজারের পরিবেশ, পানি, জলাশয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এর উন্নয়নে আরো বেশি কাজ করতে হবে।
এসময় মন্ত্রী কুতুপালং এ রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত মিনিপাইপড পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। উখিয়ার ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২ এলাকায় আইএমও পরিচালনাধীন সুপেয় পানির পাম্প কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি ক্যাম্প-২০ এক্সটেনশন এলাকায় এশীয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় ইর্মাজেন্সী এসিসট্যান্স প্রকল্পর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারসহ রাস্তা ও স্থাপনা উদ্বোধন করেন।
ক্যাম্প পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর চন্দ্র আচার্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে তারকা হোটেল দ্যা কক্স টুডে’র সম্মেলন কক্ষে ‘কক্সবাজার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আপনারা (জনপ্রতিনিধিরা) চাইতে জানলে আমাদের দিতে আপত্তি নেই। সারাদেশের তৃণমূলের উন্নয়ন মন্ত্রণালয় হিসেবে কক্সবাজারের জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। কক্সবাজার একদিন সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে। এব দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত অন্যকোন দেশে নেই। তাই এটিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুললে পর্যটন খাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে কক্সবাজার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়ের সভাপতিত্বে ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের স্বাগত বক্তব্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল, জাফর আলম, কানিজ ফাতেমা আহমেদ, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর চন্দ্র আচার্য্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তপক্ষের চেয়ারম্যান ফোরকান আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি বক্তব্য রাখেন।
এসময় মন্ত্রী কক্সবাজারকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা প্রনয়নের তাগিদ দেন।
কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ হেলাল উদ্দিন কবির ও এবি ছিদ্দিক খোকনের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড.ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সদর উপজেলা চেযারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, মহেশখালীর পৌর মেয়র মকসুদ মিয়া, টেকনাফের পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম, চকরিয়া পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড.রণজিত দাশ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর এবং কক্সবাজার পৌরসভার সকল কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী পদস্থ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












