কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন উপকূলে ডুবে যাওয়া মালয়েশিয়াগামী ফিশিং ট্রলার থেকে নিখোঁজ দাবি করা অর্ধশত রোহিঙ্গাকে নিয়ে ধুম্র জালের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রলার ডুবির ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও সেন্টমার্টিন দ্বীপের আশপাশ এবং সমুদ্রে ব্যাপক সন্ধান চালিয়েও কাউকে মৃত বা জীবিত না পাওয়ায় এ ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রব।
তার মতে, ১১ ফেব্রুয়ারি সকালের ডুবন্ত ট্রলার থেকে ১২ নারী ও তিন শিশুসহ ১৫ রোহিঙ্গার মরদেহ ও ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা ও মাঝি-মাল্লারা আরো নিখোঁজ থাকার কথা বললেও কেউ ট্রলারে উঠা যাত্রির সংখ্যা সঠিক বলতে পারেননি। কেউ বলেছে ১২০, কেউ বলেছে ১৩৮, কেউ বলেছে ১২৪ জন যাত্রি ছিল। কিন্তু জীবিত-মৃত মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৮৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কুলে তুলে আনা হয়েছে ডুবন্ত ট্রলারও। উদ্ধার কাজে নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড ও হেলিকপ্টারে এসেও চক্কর দিয়ে নিখোঁজদের খোঁজা হয়। দ্বীপের দক্ষিণ পশ্চিম তীরের বাড়িঘরেও খোঁজ নেয়া হয়েছে, কেউ সাঁতরিয়ে তীরে এসে উঠলো কিনা। কিন্তু কোথাও মৃত বা জীবিত কাউকে আর পাওয়া যায়নি। এ কারণে ট্রলারে যাত্রি সংখ্যা নিয়ে ধুম্রজাল রয়েছে। যারা উদ্ধার হয়েছে এরচেয়ে বেশি লোক থাকলে মৃত বা জীবিত পাওয়ার কথা। কারণ দ্বীপ থেকে অন্যকোথাও যাবার বা লুকে থাকার কোন সুযোগ নেই।
কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. মো. সোহেল রানা বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জন মৃত এবং ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের তথ্যমতে, ওই ফিশিং ট্রলারে আরও অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা ছিল। যারা নিখোঁজ। কিন্তু আমরা ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সাগরের বিভিন্ন স্থানে কোস্টগার্ডের দুইটি জাহাজ, স্পিড বোট ও ট্রলার নিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু কাউকে এখনো জীবিত বা মৃত পাওয়া যায়নি।
সাগরে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর জাহাজ টহলে রয়েছে। রয়েছে মাছ ধরার জেলেরাও। যেকেউ সাগরে ভাসন্ত কাউকে পেলে উদ্ধার করতে প্রস্তুত। কুলেও কারো সন্ধান পেলে শৃংখলা বাহিনীকে জানাতে নির্দেশনা দেয়া আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৯ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে নয়জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের মরদেহ এখনো রয়েছে মর্গে।
আর আদালতের নির্দেশে ৬৯ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে স্ব স্ব ক্যাম্প ইনচার্জদের জিম্মায় দেয়া হয়ে। আদালতে পরামর্শে এমনটি হয়ে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।
উদ্ধার ট্রলার থেকে ৪ জন এবং স্থলভাগ থেকে আটক অপর চারজনসহ সন্দেহজনক আট দালালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিপি।
উল্লেখ্য, নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া এলাকা দিয়ে ট্রলারে উঠে শতাধিক রোহিঙ্গা। সেন্টমার্টিন উপকুলে গিয়ে ডুবে যায় ট্রলারটি। মালয়েশিয়াগামিদের মধ্যে বেশীরভাগই নারী। দালালদের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন উপকূল পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে ভাসমান অবস্থায় ১৫ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী। একই সঙ্গে আরও ৭৩ রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারদের দাবি মতে, ট্রলারে আরও অন্তত ৫০ রোহিঙ্গা ছিল। তাদের খোঁজে তিনদিন অনুসন্ধান চালালেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












