কক্সবাজার প্রতিনিধি »
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক (এমপি) বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা ২০২১ সালের মধ্যে ১৬ কোটি মানুষের হাতে সুলভমূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রযুক্তি নির্ভর মেধায় আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলা-ই সরকারের মূল লক্ষ্য। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার অদক্ষতার কারণে দেশে সাব মেরিন ক্যাবল চালু হয়নি। অথচ তখন সাবমেরিন থাকলে দেশ আজ অনেক এগিয়ে যেত।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ৩৫টি স্থানে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন উদ্বোধন কালে প্রতিমন্ত্রী পলক এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বাংলােদশ কম্পিউটার কাউন্সিল সেলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রিতম দেব’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনীতে প্রতিমন্ত্রী পলক আরো বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব। তবে, এ দায়িত্ব নিতে হবে নতুন প্রজন্মকে। আর সেজন্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কাজ করছেন। সে লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলায় শেখ কামাল আইসিটি পার্ক করা হবে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারলে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারবে। এতে বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করবে না আমাদের তরুন প্রজন্ম।
মন্ত্রী পলক বলেন,কলাতলী মোড়ে হাঙ্গরের ভাস্কর্যটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে বিদেশি পর্যটকদের ভীতি ছড়ায়। তারা মনে করে সৈকতে হিংস্র হাঙ্গর আছে। অথচ কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে হিং¯্র হাঙ্গর নেই। হাঙ্গরের ভাস্কর্য তুলে, কলাতলী মোড়ে সার্ফিং ভাস্কর্য স্থাপন করতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ভাস্কর্যটি হবে,‘ওয়েলকাম টু সার্ফিং সিটি’। এমনটি হলে বিদেশিদের কাছে কক্সবাজারকে সার্ফিং সিটি হিসেবে তুলে ধরা হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমরা একশটি উদ্যোগকে সফলভাবে সবার কাছে নিয়ে যেতে ১০০টি স্টার্টআপকে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ড প্রদান করব। যেখানে ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হবে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ড আমরা চলমান রাখব।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া এ ওয়াইফান জোন এক বছর চালু থাকবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিটি ওয়াই-ফাই ডিভাইস আনুমানিক ২ হাজার ৭২৮ বর্গমিটার বা ৩০ মিটার রেডিয়াস জায়গা বিস্তার করবে। ৭৪ টি ডিভাইস ৩০০ এমবিপিএস ব্যান্ডউয়িথ দেয়া আছে যা প্রতিজন ২০ এমবিপিএস স্পীডে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং প্রতিটি ডিভাইস সর্বোচ্চ ১০০ জন ব্যবহারকারিকে যুক্ত করে সুুুবিধা দিবে। প্রতিদিন স্থানীয় ও পর্যটক মিলে প্রায় ৩৮ হাজার লোক ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন।
যেসব এলাকায় ওয়াইফাই পাওয়া যাবে তা হলো, সুগন্ধ্যা পয়েন্ট,সাইমন বীচ,লাবনী বীচ,কলাতলী বীচ, বিয়াম ভবন, ডলফিন চত্বর, হোটেল মোটেল রোড,জাম্বুর মোড়,রূপচাঁদ ভাস্কর্য, সম্পাদক ভাস্কর্য, হলিড়ে মোড়,প্রেসক্লাব, পুরাতন স্টেডিয়াম, বার্মিজ মার্কেট, রোডকচ্ছপিয়া পুকুর,সার্কিট হাউজ, গোল দিঘি, বনবিভাগ উত্তর ও দক্ষিণ, জেলা প্রশাসানের কার্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরী, দৌলদ ময়দান, শহীদ মিনার,জজ কোর্ট, পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা পরিষদ, হিলটাইন সার্কিট হাউজ, হিল টপ সার্কিট হাউজ, রাডার স্টেশন, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক, গণপূর্ত অধিদপ্তর কার্যালয়, লারপাড়া বাস স্ট্যান্ড, হিমছড়ি ও দরিয়ানগর।
বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা চালু হয়েছে জেনে পেশাজীবি হানিফ ইকবাল ও সমাজকর্মী ওয়াহিদ রুবেল বেলন, বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনে এগিয়ে যাচ্ছে এটাই তার বড় প্রমাণ। কয়েক বছর আগেও আমরা যা কল্পনাও করতে পারতাম না, এখন ঘরে বসে তা পাচ্ছি।
ফ্রি ওয়াই-ফাই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-১ আসনের সাংসদ জাফর আলম, কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আমিন আল পারভেজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন।
এর আগে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’ প্রকল্পের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় যোগদেন মন্ত্রী।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












