বাংলাধারা প্রতিবেদন »
এবারের চসিক নির্বাচনে বেশ কিছু নতুন প্রার্থীকে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করা সাবেক কাউন্সিলরদেরও দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আগামীকাল বুধবার ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে এগিয়ে আছেন আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক জিএস ও চট্টগ্রাম মহানগরের যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন। ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে আবুল হাসনাত বেলাল, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ।
১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন আব্দুল মান্নান। ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেতে পারেন অ্যাডভোকেট এমএ নাসের। ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি জয়নাল উদ্দিন জাহেদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ।
২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেতে পারেন আব্দুস সবুর লিটন। লিটন এই ওয়ার্ডের সাবেক সফল কাউন্সিলর। এছাড়া রামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও সফলতার সাথেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ আজিজুর রহমান আজিজ। ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে আছেন নজরুল ইসলাম বাহাদুর। ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি খলিলুর রহমান নাহিদ। ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের।
৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন আনিছুর রহমান ইমন। ৩৫ নম্বর বক্সির হাট ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন ফয়েজ উল্লাহ চৌধুরী বাহাদুর।
৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় কয়েকজন সাংসদের কাছ থেকে তালিকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এসব তালিকা যাচাই–বাছাইয়ের পাশাপাশি প্রার্থীদের অতীত ইতিহাস বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সাংসদদের পাঠানো তালিকায় অনেক নতুন প্রার্থীর নাম রয়েছে।
বিতর্কিত বর্তমান কাউন্সিলরদের মধ্যে দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মো. আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের, সরাইপাড়া ওয়ার্ডের মো. সাবের আহমদ, পাহাড়তলী ওয়ার্ডের মো. হোসেন হিরণ, পশ্চিম ষোলশহরের মোবারক আলী অন্যতম। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জায়গা দখল, সন্ত্রাস, আধিপত্য বিস্তারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বাদ পড়তে পারেন এমন কাউন্সিলরদের মধ্যে আছেন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন কমপক্ষে এক ডজন কাউন্সিলর। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জয়ী হয়ে আসা এসব কাউন্সিলরের অনেকের বিরুদ্ধে দায়িত্বের মেয়াদকালে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা গেছে বছরজুড়ে। অনেকে আবার রাজনৈতিক বিভিন্ন মেরুকরণে বাতিলের খাতায় পড়ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নির্ভরযোগ্য নেতার সাথে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বর্তমান কাউন্সিলরের মধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এসব কাউন্সিলর হলেন, ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে কফিল উদ্দিন খান, ৯ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের জহুরুল আলম জসিম, ১১ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের সাবের হোসেন সওদাগর, ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে এএফ কবির আহমেদ মানিক, ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের শৈবাল দাশ সুমন, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে নাজমুল হক ডিউক, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের এসএম এরশাদ উল্লাহ, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদের এইচ এম সোহেল, ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডে নুরুল হক এবং ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে জিয়াউল হক সুমন।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচনে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫টিতে এবং সংরক্ষিত ১৪টির মধ্যে ১১টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন। এবার অনেক বর্তমান কাউন্সিলরকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












