৩০ মার্চ ২০২৬

চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে শাহ আমানতে বসানো হল বডি স্ক্যানার

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় বসানো হয়েছে বডি স্ক্যানার। চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে আধুনিক এ যন্ত্রটি বসানো হয়। যন্ত্রটি উদ্বোধন করা হবে শীঘ্রই।

জানা যায়, এই মেশিনটি দিয়ে যাত্রীর শরীরে কী আছে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করা যাবে। যন্ত্রটির মধ্যে যেকোন যাত্রীকে ঢুকিয়ে দুই হাত উপরে তুললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান হয়ে ছবি দেখাবে স্ক্রিনে। শরীরের কোন স্থানে ধাতব বস্তু থাকলে তা দেখা যাবে পাশে থাকা কম্পিউটার স্ক্রিনে।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান জানান, চোরাচালান রোধ ও যাত্রীর বেশ ধরে কোনো সন্ত্রাসী যাতে প্লেনে অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে শাহ আমানত বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’। এটি বসাচ্ছে জাইকা। তারাই যাবতীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। যা আগামী এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।

সূত্র জানায়, জাইকার অর্থায়নে স্ক্যানারটি বসানো হয়েছে। ৮ ফুট উঁচু ছোট্ট একটি কাঁচের ঘরের মতো দেখতে স্ক্যানারটিতে যাত্রী যদি অন্তর্বাসের ভেতর লুকিয়েও অস্ত্র, বিস্ফোরক, বোমা তৈরির উপকরণ নিয়ে প্লেনে ওঠার চেষ্টা করে তবে তা স্ক্যানারে সংযুক্ত মনিটরে ধরা পড়বে। মেটালিক, নন-মেটালিক, উইপনস, স্ট্যান্ডার্ড ও হোম মেড বিস্ফোরক (শিট ও বাল্ক), লিক্যুইডস, জেলস, প্লাস্টিকস, পাউডারস, সিরামিক ইত্যাদি ধরা পড়বে। একজন যাত্রীকে স্ক্যান করতে সময় লাগবে দেড়-দুই সেকেন্ড। ঘণ্টায় দুই-তিনশ যাত্রীকে স্ক্যান করা যাবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে গত বছর ১৭ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। ওই বছরে ২ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন কার্গো রপ্তানি ও ৬ হাজার ৮৮১ মেট্রিকটন কার্গো আমদানি হয়েছে এ বিমানবন্দর দিয়ে। গত ১০ বছরে ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৮ গুণ এবং যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ১২ গুণ। কার্গো বেড়েছে ৮ দশমিক ৯ গুণ। বর্তমানে ৯টি আর্ন্তজাতিক রুটে ৩টি বিদেশি সংস্থাসহ ১১টি বিমান সংস্থা চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করছে। এখানে দৈনিক ৪০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। সপ্তাহে যাতায়াত করছেন ৫৬০ জন যাত্রী।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন