৩০ মার্চ ২০২৬

ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন বোয়ালখালীর কৃষকরা

দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু, বোয়ালখালী »

ভুট্টার ক্ষেতে লকলকে সবুজ পাতার ফাঁকে আসতে শুরু করেছে ফুল ও ভুট্টার মোচা। এ দৃশ্য দেখে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। স্বল্প খরচে অল্প পরিশ্রমে ভুট্টা চাষে লাভবান হওয়ায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

এবার উপজেলার ৪০ জন কৃষক কৃষি অধিদফতরের সহযোগিতা নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন নিজেদের জমিতে। ভুট্টার ক্ষেতে ফুল ও মোচা আসতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হেক্টর জমি। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসান জানান, স্বল্প সময়ে ও কম খরচে ভুট্টা চাষে লাভবান হওয়ার পরামর্শ পেয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। এবার ৪০জন আগ্রহী ভুট্টা চাষীদের সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এবারের রবি মৌসুমে উপজেলার পৌরসভা, শাকপুরা, কধুরখীল, আমুচিয়া, কড়লডেঙ্গা ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ভুট্টা ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

৪ একর জায়গায় ভুট্টা চাষ করেছেন আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাহবুব আলম। প্রথমবারের মতো তিনি ভুট্টা চাষ করেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভুট্টার চাষ দেখে আগ্রহী হন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এবার ভুট্টা চাষ শুরু করেছেন।

মো. মাহবুব আলম বলেন, সব মিলিয়ে ১লাখ ১৫হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ একর জায়গায় ভুট্টা চাষ করেছি। ভালো ফলনও আসতে শুরু করেছে। আশা করছি তিনগুণ লাভ হবে এবারের ভুট্টা চাষে। যদি আশানুরূপ ফলন হয় তবে আগামীতে ১০ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করবো।

ভুট্টা চাষী সুনীল কুমার মল্লিক বলেন, ধান চাষে ব্যয় বেশি হওয়ায় খরচের সাথে ফলনের মিল থাকে না। তাই ভুট্টা চাষ করেছি। তবে মাড়াই যন্ত্র না থাকায় ভুট্টা চাষ করে বিপাকে পড়তে হয়। সরকারিভাবে যদি কৃষকদের মাড়াই যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ জানান, ভুট্টা চাষের জন্য বোয়ালখালী উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী। পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ করে স্বল্প সময়ে অল্প পরিশ্রমে লাভবান হওয়া যায়। বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে জমি প্রস্তুুত করে ভুট্টার বীজ বপন করতে হয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সেচ, কীটনাশক ও সার তেমন একটা লাগে না। ৫ মাসের মধ্যে ফলন ঘরে তোলা যায়। ভুট্টা গৃহপালিত পশু-পাখি ও মাছের খাদ্য হিসেব ব্যবহৃত হয়। দেশে ২লাখ ৭০হাজার মেট্রিক টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। ভুট্টা প্রতি মণ বাজারে ৬-৭’শ টাকায় বিক্রি করা যায়। এছাড়া ভুট্টা গাছ গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

তিনি আরও বলেন, বোয়ালখালীতে ভুট্টার মাড়াই যন্ত্র না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সনাতনী পদ্ধতিতে তারা ভুট্টা মাড়াই করছেন। যদি ভুট্টার মাড়াই যন্ত্র কৃষকরা পান তাহলে আরো লাভবান হবেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন