বাংলাধারা প্রতিবেদন »
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী আয়োজনে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করলেন তার দুই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে মুজিববর্ষের বিশেষ উদ্বোধনী আয়োজনে বাবাকে নিবেদন করে ছোট মেয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করলেন বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। রাত আটটা থেকে অনুষ্ঠানটি বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন ও অনলাইনে সম্প্রচার করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের অডিও-ভিজ্যুয়াল দিয়ে সাজানো হয় কবিতা পাঠের অংশটি, যাতে সংযুক্ত করা হয় ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের একটি অংশও।
’বাবা’ শিরোনামের ওই কবিতা শেখ রেহানা লিখেছিলেন ২০১০ সালে; বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে না পারার আক্ষেপ ঝরে সেই কবিতায়।
কবিতার কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
জন্মদিনে প্রতিবার একটি ফুল দিয়ে
শুভেচ্ছা জানানো ছিল
আমার সবচেয়ে আনন্দ।
আর কখনো পাবো না এই সুখ
আর কখনো বলতে পারব নাশুভ জন্মদিন।
কেন এমন হল?
কে দেবে আমার প্রশ্নের উত্তর।কোথায় পাব তোমায়…
যদি সন্ধ্যাতারাদের মাঝে থাক
আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবশুভ জন্মদিন।
তুমি কি মিটি মিটি জ্বলবে?
যদি বিশাল সমুদ্রের সামনে
ঢেউদের খেলার মাঝে থাকো বলব
শুভ জন্মদিনসমুদ্রের গর্জনে শুনব কি তোমার বজ্রকণ্ঠ?
পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে মেঘ
নীল আকাশে লুকোচুরি খেলে
তুমি কি ওখানে?
তাকিয়ে বলবশুভ জন্মদিন।
এক টুকরো সাদা মেঘ ভেসে যাবে
ওখানে কি তুমি?
আকাশে বাতাসে পাহাড়ে উপত্যকায়
তোমাকে খুঁজব, ডাকব বাবা
যে প্রতিধ্বনি হবেওখানে কি তুমি?
শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন।
বছরব্যাপী মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ের কারণে তা বাতিল করা হয় এবং ‘মুক্তির মহানায়ক’ অনুষ্ঠান নির্মাণ করে তা সম্প্রচার করা হয়।
জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার তার জন্মদিনে সূচনা হল সেই বর্ষগণনার।স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২৬ মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত তা চলবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে সারাদেশে যেমন তেমনি ইউনেস্কোর উদ্যোগে সমগ্রবিশ্বে ও উদযাপিত হচ্ছে মুজিববর্ষ।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












