৩০ মার্চ ২০২৬

করোনা মোকাবিলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪জি সুবিধা চালুর দাবি সিসিএনএফ’র

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বৈশ্বিক আতংক করোনা মোকাবিলায় উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাময়িক হলেও ইন্টারনেটের ৪জি সুবিধা চালুর দাবি করেছে কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নরত ৬০টি স্থানীয় এবং জাতীয় এনজিও’র নেটওয়ার্ক কক্সবাজার সিএসও এনই এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ)।

সোমবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলন এবং আলোচনা সভায় আয়োজক ও অংশগ্রহণকারিরা এদাবিতে ঐকমত্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, করোনা সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে ককক্সবাজার জেলা সরকার এবং দাতা সংস্থা সমূহের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ জেলাটি মানবিক উন্নয়ন সূচকে তূলনামূলক ভাবে পিছিয়ে আছে এবং এই জেলায় পায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পরে সামাজিক শক্তিগুলো যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছিলো, করোনা সংকট মোকাবেলায় একই ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অংশগ্রহণকারিদের মাঝে বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফের সাংবাদিকগণ রোহিঙ্গা শিবির এলাকা এবং উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় সাময়িকভাবে হলেও ৪জি মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সেবা চালুর দাবি জানান। এতে করে সবার পক্ষে করোনা মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ এবং গুজব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সহজে সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রেরণ করতে পারবেন ।

সিসিএনএফ’র তিন কো-চেয়ার কোস্ট ট্রাস্টে’র পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন পালস’র আবু মোর্শেদ চৌধুরী, মুক্তি কক্সবাজার’র বিমল দে সরকার, দুর্যোগ ফোরাম’র নঈম গওহর ওয়ারা, নাহাব’র আব্দুল লতিফ খান, এডাব’র জসিম উদ্দিন, এফএনবি’র রফিকুল ইসলাম।

আলোচনায় উঠে আসে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার উচিৎ পুরো কক্সবাজার জেলাকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা। সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে রোহিঙ্গা শিবির এবং স্থানীয় এলাকা গুলোকে ব্যাপক সচেতনতা ও কিছু মাত্রায় বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন। শিবিরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সকল দর্শনার্থী এবং কর্মরত সবারই তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। এটা প্রমাণিত যে, শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দেরকেই রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে, কারণ তারা এখানেই বসবাস করেন। তাই রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এনজিও, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। কোন সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন, কিন্তু ভবিষ্যতে খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং সামগ্রিক সমাজ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্থানীয় করণ রূপরেখা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।

আরো বলা হয়, কক্সবাজারের দিনমজুর এবং হোটেল শ্রমিক, জেলেসহ নিম্নআয়ের মানুষদেরকে বিশেষ সহায়তা দিতে হবে। শহরে প্রচুর পথশিশু আছে, তাদেরকে সহায়তা করা দরকার। যেসব এনজিও এবং সংস্থা পথশিশু, প্রতিবন্ধি এবং অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে, তাদেরজন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় এবং জাতীয় এনজিও গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে নিজস্ব উদোগে পুরো জেলায় বিভিন্ন ত্রাণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। করোনা সংক্রমণের মূল কারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং বিদেশীরা-এ ধরনের ভূল ধারণার বিরুদ্ধেও সচেনতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বক্তারা বলেন, জেলার ডাক্তার, নার্স এবং ক্লিনিক মালিকদেরকে উজ্জিবিত করতে জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে তাঁরা চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যান। তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপত্তা উপকরণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। করোনা সংকট মোকাবেলায় গৃহীত প্রকল্প গুলোর আবেদন (এফডি ৭) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদনের জন্য এনজিও ব্যুরোকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে আবদেন জমা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া চালুকরা যেতে পারে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন