৩০ মার্চ ২০২৬

করোনা ঠেকাতে নগরীর অলিগলিতে পুলিশের কর্মযজ্ঞ

ইয়াসির রাফা »

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিরামহীনভাবে চলছে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মযজ্ঞ। দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে গতানুগতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ মানবিক নানান কর্মকাণ্ডেও ব্যস্ত রেখেছে নিজেদের।

চট্টগ্রাম শহরে ইতোমধ্যে একাধিক করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ৬ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নগরীর ঔষুধের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দ্রব্যাদির দোকান বন্ধ থাকার নির্দেশ দেয় সিএমপি কমিশনার ৷ আর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সিএমপি কিছু মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে সিএমপি’র প্রত্যেক ইউনিটের সদস্যরা বিরামহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পুলিশকে। বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনও করতে হচ্ছে।

কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে নগরীর অলিগলিতে পুলিশি টহল আরো জোরদার করা হয়েছে ৷ সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশের টহলে থানার ওসিসহ থানার সকল অফিসাররা অংশ নিচ্ছে। ঔষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ নিশ্চিতকরণসহ অলিগলির ভেতরে যে কোন প্রকার আড্ডা, জটলা বা অতিরিক্ত জনসমাগম দেখা মাত্র পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা ৷ হ্যান্ড মাইকে এলাকাবাসিকে ঘরে থাকার আহবান জানানোসহ টহল গাড়ীতে করে মাইকে এলাকাবাসিকে করোনাভাইরাস সংক্রামণ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জনসচেতনামূলক প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে ৷

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, কোয়ারিন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের উপর জোর দিয়েছে পুলিশ। একই সাথে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও জীবানুনাশক বিতরণও করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রাতদিন পরিশ্রম করছে জেলা পুলিশের সদস্যরা।

সিএমপি দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুর রউফ জানান, সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যার পর থেকে ঔষধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে৷ দুই-একটি দোকান খোলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে৷

এলাকার অলিগলিতে কাউকে কোন প্রকার আড্ডা না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনো নগর বাসিকে অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছি৷ ইতোমধ্যে বেশিরভাগ নগরবাসী সচেতনভাবে ঘরে অবস্থান করলেও কিছু কিছু এলাকায় বা পাড়া মহল্লায় বিচ্ছিন্ন ভাবে লোকজন আড্ডা দেয়ার অভিযোগ আমরা পাচ্ছি৷ তাৎক্ষণিক থানার একাধিক টিম সেই স্থান গুলোতে অভিযানে নামলে তারা ঘরে ঢুকে যাচ্ছে৷ হয়তো তারা ভাবছে পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছে কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রামনকে কিন্তু ফাঁকি দেয়া যাবে না৷ তাই এসব আড্ডা বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন