৩০ মার্চ ২০২৬

লকডাউনে ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বেড়েছে সেনা নজরদারি

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বুধবার বিকেল থেকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউনের আওতায় কেউ কক্সবাজারে প্রবেশ ও কক্সবাজার থেকে বাইরে যেতে পারবেন না।

এ আদেশ অমান্য কারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিওেদেয়া রয়েছে। এতে করে লকডাউনের আওতায় পড়েছে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পও। সে হিসেবেই সকল কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদার।

আর কক্সবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ঘোষনা কৃত লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কঠোর ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, জেলা লকডাউন ঘোষণা মানে উক্ত জেলার সমগ্র ভৌগলিক এলাকা আপনাআপনি লকডাউন হয়ে যাওয়া। জেলার মাঝেই রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প পড়ায় তাও এর আওতায় পড়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলাদা লকডাউন ঘোষনার প্রয়োজন নেই। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসেন সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে কক্সবাজারকে লকডাউন ঘোষনা দিয়েছেন।

মাহবুব আলম তালুকদার আরো বলেন, ৩৪ টি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস জনিত লকডাউনের সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে ইতোমধ্যে আরআরআরসি অফিস থেকে সিআইসিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে শরনার্থী ক্যাম্প গুলোতে আগে থেকেই আনঅফিশিয়ালি অনেকটা লকডাউনের মতোই নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত আকারে কার্যক্রম চলছিল। এখনো ক্যাম্প এলাকাতেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হবে।

এদিকে, কক্সবাজার প্রবেশ ও কক্সবাজার থেকে বের হওয়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের প্রধান সব প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সকল উপজেলায় জোরদার করা হয়েছে সেনা টহল। জরুরী সেবাদানকারী যানবাহন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এমন নির্দেশনা বলবত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানা এমনকি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

একই ভাবে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে সীমিত করা হয়েছে সকল ধরনের যান চলাচল। অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও ত্রাণ সংক্রান্ত গাড়ি ব্যতীত কোন ধরনের গাড়ি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেয়া বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

সেনাবাহিনীর রামু সেনানিবাস সূত্রে জানায়, আরআরআরসির স্টিকার বা লিখিত অনুমোদন ব্যতীত দেশি, বিদেশি এনজিও বা ব্যক্তিবর্গের ক্যাম্পে প্রবেশ-বাহির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে পুরো জেলায় জরুরি পরিষেবা যেমন-চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৫১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৫২ জন। আর এপর্যন্ত ৭৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে জেলায়। তাদের সবার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন