বাংলাধারা প্রতিবেদন »
স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত কোটি মানুষের আহাজারি থামাতে পুরো সেবাখাতটি রাষ্ট্রায়াত্তকরণ এবং প্রয়োজনে সুশৃংখল সেনা ব্যবস্থাপনায় ছয় মাসের জন্য হলেও অন্তর্র্বতীকালীন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে নাগরিক প্রস্তাবনা তুলেছেন চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ও বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। স্বাস্থ্যখাতে অরাজক অবস্থা তৈরিতে, বিশেষ করে করোনা ইস্যুতে ভীতি সঞ্চারসহ সরকারবিরোধী অবস্থান তৈরিতে রহস্যজনকভাবে মহলবিশেষ তৎপর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈশ্বিক করোনা বিদ্ধ সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার করুন চিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্তর্ভাগে থাকা দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবাজ একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের চিত্র।
ভিডিও বার্তায় রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য সেবা সেক্টরে দীর্ঘদিনের লুটেরা ঠিকাদার গোষ্ঠী বেসরকারি কিছু হাসপাতালের নিয়ন্ত্রকদের সাথে জোট বেঁধে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরী করছে। এমন অবস্থায় লুটেরা মাফিয়াদের ঠেকিয়ে জনস্বার্থে স্বাস্থ্যখাতে রাষ্ট্রীয় সার্বিক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।
পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে অপেক্ষাকৃত নবীন-তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি সিনিয়র চিকিৎসকদের কোন নির্দেশনা কিংবা সমন্বয় নেই। নবীনরা অনেকাংশেই চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মনোযোগী থাকলেও তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য নানামাত্রিক অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দেশজুড়ে প্রায় ৯০ হাজার চিকিৎসকের সেবা খাতে চলমান অন্তর্মুখী’ অবস্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সেবাখাতটিতে অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য এখন চরমে। করোনাবিদ্ধ সময়ে শুরুর দিকে থাকা পিপিই সংকট কেটে গেলেও চিকিৎসা প্রার্থীরা চরমভাবে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভিডিও বার্তায় চৌধুরী বলেছেন, দল-মতের বাইরে গিয়ে সেবা না দেওয়ার ক্ষেত্রে ঐক্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনুসারী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)ও বিএনপ’র বাংলাদে মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), কিংবা বিএনপি সমর্থিত ড্যাব ও জামায়াত সহ অন্য দলগুলোর অনুসারী চিকিৎসকরা।
রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, যারা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তাঁরা প্রাণমন দিয়েই দিচ্ছেন। তাঁদের প্রতি মানুষ কৃতজ্ঞ। এ স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকের কথা বাদ দিলে সারা দেশে চিকিৎসক,সমভাবে নার্স,আয়া সহ সেবাকর্মীরা লাপাত্তা। সেবায় নেই দেশের অন্ততঃ ৯০হাজার চিকিৎসক। প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েও লাপাত্তা চিকিৎসকরা।
ভিডিওবার্তায় বলা হয়, সরকারের গত প্রায় ১১বছরের মধ্যে প্রায় ১৬হাজার চিকিৎসক ক্যাডারভুক্ত হন। সর্বশেষ ৩৯তম স্পেশাল বিসিএস এ ৩৩হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩হাজার উত্তীর্ণ হন। তৎমধ্যে ৪হাজার ৮’শকে ক্যাডারভুক্ত পদায়ন হয়। নন ক্যাডার হিসেবে রয়েছেন আরও অন্তত ২হাজার। সবমিলিয়ে সরকারি ২৫ থেকে ২৬ হাজার চিকিৎসক থাকার কথা। বিএমডিসির সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ সরকারি হাসপাতালে, অন্যরা সব প্রাইভেট হাসপাতালে সক্রিয় থাকার কথা থাকলেও হাসপাতাল ক্লিনিকে উপস্থিতি নেই। ১শতাংশ চিকিৎসকও সেবায় নেই’। সেবায় হাতে গোনা ক’জন মাত্র।
রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, চিকিৎসক, পুলিশ,সাংবাদিক ; এই তিন শ্রেণীর পেশাজীবীকেই সাধারণ মানুষ নানা সময়ে বুঝে হোক না বুঝে হোক গালমন্দ করেন।এটি করা অস্বাভাবিক নয় । তবে এবারের সংকটে চিকিৎসক বন্ধুদের সিংহভাগেরই (সবার নন) আচরণ বড় বেশি অমানবিক এবং রহস্যময়।
বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা বাদ দিলে, আমার দেশের সাধারণ চিকিৎসক ভাই-বোনদের অনেক ত্যাগের ইতিহাস আছে । এদেশের মানবিক চিকিৎসকরা শর্ত দিয়ে সেবা দেওয়ার কথা নয়। অতীতেও করোনার চেয়ে ভয়াবহ মহামারী এসেছে। কোন সময় চিকিৎসকরা এভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেননি। শর্ত দেননি। তাহলে এখন শর্ত দিবেন কেন?!
ড. অনুপম সেনের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, ভয়কে জয় করে পীড়িতের পাশে দাঁড়ানোই চিকিৎসকদের কাজ। যারা মানুষের বিপদে নিজের পেশাকে অবজ্ঞা করেন, তাদের পেশায় থাকার অধিকার নেই । কোন সৈনিক যদি যুদ্ধক্ষেত্রে না যায়, তাহলে তার যেমন সৈনিক হিসেবে থাকার অধিকার নেই, তেমনিভাবে দুর্যোগে পীড়িতের পাশে না থাকা ডাক্তারের পেশায় থাকা উচিত নয়। তাঁর সনদ বাতিল করাও উচিত।
ভিডিওবার্তাটিতে এও বলা হয়, সভ্যতার ইতিহাসে এই বাংলাদেশেই কলেরা, বসন্ত, টাইফয়েড সহ অতীতের মহামারীগুলো আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সে সময়ে ডাক্তাররা রোগীর পাশে ছিলেন । এখন প্রযুক্তি, সুরক্ষা, প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা অনেক বেশি থাকলেও দুঃসময়ে সেবা না দেওয়াটা দুঃখজনক।অথচ ইতালি স্পেন সহ অন্য দেশের চিকিৎসকরা মানবিক সংকটে সেবা দিচ্ছেন, রোগিদের জন্য কাঁদছেনও। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সেবা অনীহায় মানুষ বিতৃষ্ণ এবং বিক্ষুব্ধ হবার আশঙ্কা রয়েছে।’
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












