প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো আমরা বাস্তবায়ন করছি।
আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গ্রামকে শহরে রূপান্তর করা হচ্ছে। আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল ‘এক অবিস্মরণীয় দিন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন করা হয়। সেদিন থেকে এ স্থানটি ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।’
ঐতিহাসিক এ দিনে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেছেন জাতীয় চার নেতাকে।
এছাড়াও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং নির্যাতিত মা-বোনদের। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার নির্দেশে মুক্তিকামী বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় রাজনৈতিক দলসমূহ, সশস্ত্রবাহিনী, পুলিশ ও তদানীন্তন ইপিআরসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকার দীর্ঘ নয় মাস দক্ষতার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মিত্রশক্তির সহায়তায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বিশ্বের বুকে জন্মনেয় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করার লক্ষে আড়াই মাসের ব্যবধানে ৩ নভেম্বর জেলখানায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।’
জাতির পিতাকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার সামরিক স্বৈরাচারের বুটের তলায় পিষ্ট হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার করা হয়। জনগণের ভোটে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরে আসে।
মানুষ ফিরে পায় তাদের অধিকার। ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনকাল ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণযুগ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের প্রচলিত আদালতে বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি দায়মুক্ত হয়েছে।
জেলখানায় নিহত চার জাতীয় নেতা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। ৭১-এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।
আমরা পাকিস্তানি বাহিনী এবং তার দোসরদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরুর দিন ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












