বাংলাধারা প্রতিবেদন »
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইটের পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল ৭ জন। নগরীর বাকলিয়া ডিসি রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিন ‘নব্য জেএমবি সদস্যকে’ গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
সোমবার (৪ মে) এসব তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মো. সাইফুল্লাহ (২৪), মো. এমরান (২৫) ও আবু ছালেহ (২৫)। তাদের মধ্যে এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টার এবং আবু ছালেহ একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের টেক্সটাইল অনুষদের শিক্ষার্থী। সাইফুল্লাহ চকবাজার একটি কম্পিউটারের দোকানের কর্মচারী।
রোববার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথের নেতৃত্বে একটি টিম।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি সেলিম, আবু সাদেকসহ তিনজন আইইডি নিয়ে এমরানের বাসায় যান। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে কয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সবাই মিলে বিস্ফারণের জন্য দুই নম্বর গেইট পুলিশ বক্সকে টার্গেট করেন।
রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে কীভাবে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে এমরানকে সেই প্রশিক্ষণ দেন সেলিম। পরে তার হাতে রিমোট কন্ট্রোলার হস্তান্তর করেন। আবু সাদেক আইইডি পুলিশ সদস্যদের অগোচরে পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা টেবিলের নিচে রেখে আসেন। পরে এমরানকে ফোনে জানান তিনি।
এমরান বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে রিমোট কন্ট্রোলারটি আপন নিবাসের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। পরে সাইফুল নামে আরেকজন ডাস্টবিন থেকে রিমোট কন্ট্রোলারটি সংগ্রহ করেন। তিনি পুলিশ বক্সের বিপরীতে যাত্রী ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটান।
বিস্ফোরণের পর এমরান ছাড়া অন্যরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে সাইফুল ডিসি রোডের গণি কলোনী এলাকার ওই বাসা ভাড়া নেন। সাধারণ ছুটিতে সবাই যার যার বাড়িতে চলে যায়।
পরে জহির নামে তাদের এক সদস্য ফোন করে বাড়ি থেকে সরে যেতে বললে সাইফুল, এমরান, আবু সালেহ সেলিমের দেওয়া ব্যাগ নিয়ে ডিসি রোডের বাসায় এসে আত্মগোপন করেন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, এরা মূলত স্লিপার সেল স্টাইলে কাজ করে। এদের নেতা কে এখন পর্যন্ত তা বলতে পারছিনা। বোমা হামলায় স্বশরীরে ৭ জন অংশ নিলেও এই দলের ১৪/১৫ জন সদস্যের নামের তালিকা এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে আছে। যাদের মধ্যে ৩ জনকে আমরা আটক করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ বক্সে রেখে যাওয়া বিস্ফোরক দূর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বলেও এসময় জানান পলাশ কান্তি নাথ।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












